
সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন ঘাঁটি পুড়ছে দাবিতে একটি ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দৃশ্যটি ইয়েমেনের পুরোনো ঘটনার।
“খেলাফত আমাদের টার্গেট” নামের ফেসবুক প্রোফাইলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “সৌদি আরবের রিয়াদের মার্কিন ঘাটি পুড়ছে আলহামদুলিল্লাহ।” এছাড়াও আরও একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই ভিডিও ও ছবি খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২, ৩, ৪)।

সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত হুবহু একই ভিডিও সামনে আসে। ক্যাপশনে লেখা আছে, “ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দরে হামলা চলছে এবং শত শত বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।” ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ২০২৪ সালের ২১ জুলাই।

অধিকতর যাচাইয়ে ইয়েমেন-ভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলেও একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা আছে, “#হোদেইদাহ বন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলার নতুন ফুটেজ।” এই ফুটেজটি আপলোড করা হয়েছে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত খবর খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২)। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেল আবিবে হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দরে এই বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় বন্দর এলাকার তেলের ডিপো এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের ওই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছিলেন।

অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন ঘাঁটিতে আগুন লাগার দাবিতে যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে, তা মূলত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। এর সঙ্গে সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটি পোড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।