
ফেসবুকে নিউজ টোয়েন্টিফোরের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়াতে দেখা গেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, এ নির্বাচন তারা মানেন না, পিআর পদ্ধতি চান। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড নিউজ টোয়েন্টিফোর প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকে একটি গ্রুপ থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ডাকসু এর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েমের ছবি সম্বলিত ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “কি বলে🫵” (অপরিবর্তিত)।

ফটোকার্ডে ভেতরে লেখা, “আমরা পিআর পদ্ধতি চাই ,এ নির্বাচন আমরা মানি না”। ছড়ানো ফটোকার্ডের উপরে ডানপাশে নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর লোগো দেওয়া। ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির নিচে “১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬” উল্লেখ করা হয়েছে। ফটোকার্ডের নিচে নিউজ টোয়েন্টিফোরের ফেসবুক, ইউটিউব এবং ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটোকার্ডটিতে ৩৩টি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্যবহারকারীদের ৮টি মন্তব্য করতে দেখা গেছে। পোস্টটি শেয়ার করা হয় ৫ বার। পোস্টে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “পাকিস্তানি তোর মানার দরকার নাই’। আরেক ব্যবহারকারী জানান, “এর জন্য জামায়াতের ভুমিধস।”
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম নিউজ টোয়েন্টিফোরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের ১৩ ফেব্রুয়ারির ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। নির্দিষ্ট এই তারিখে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে একই ছবি ব্যবহার করে “’সাজানো নির্বাচনে ক্ষমতা হস্তান্তর শহীদদের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’” শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে নিউজ টোয়েন্টিফোর।

এছাড়াও, সাদিক কায়েমের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও পিআর পদ্ধতি চেয়ে নির্বাচন বয়কট সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সংবাদমাধ্যমটির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিনিয়র সাব এডিটর সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন, “এটি ভুয়া কার্ড। এমন কোনো নিউজ বা কার্ড নিউজ টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে করা হয়নি।”
অর্থাৎ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া। ফল প্রকাশের পর পিআর পদ্ধতি চেয়ে কোনো মন্তব্য করেননি সাদিক কায়েম।