
বাংলাদেশের আদালত ভবনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। চলতি বছরের ২ মার্চ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ভিডিওটি পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্টে বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারির দৃশ্য।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৫ মার্চ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আদালতের ভেতরে আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন এবং ধস্তাধস্তি করছেন। এক নারী আইনজীবীর সঙ্গে একাধিক পুরুষ আইনজীবী মারামারি করছেন। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “বিএনপির আইন জীবীরা কোর্টকে বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করতাছে, সঠিক সময়ে সঠিক জবাব দেওয়া হবে ইনশআল্লাহ।” (লেখা অপরিবর্তিত) ক্যাপশনের নিচে হ্যাশট্যাগ হিসেবে রাজনীতি, বাংলানিউজ, চট্টগ্রাম শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার বার। শেয়ার হয়েছে দুই হাজারের বেশি। ব্যবহারকারীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেড় হাজারের অধিক। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩, ৪) ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব চলতি বছরের ২ মার্চ পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। শিরোনামে লেখা, “ভয়াবহ সহিংসতা: লাহোর হাইকোর্ট বার নির্বাচনে আইনজীবীদের হাতাহাতি, নারী আইনজীবী লাঞ্ছিত!” ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ৬ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে পাকিস্তানের একাধিক গণমাধ্যমের (১, ২) প্রকাশিত প্রতিবেদন পায় ডিসমিসল্যাব।
পাকিস্তান টুডেতে ২ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে একজন পুরুষ ও একজন নারী আইনজীবীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং দুজন পুরুষ আইনজীবীকেও পৃথকভাবে শারীরিক লড়াইয়ে লিপ্ত হতে দেখা যায়।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্টে আইনজীবীদের মধ্যকার সংঘর্ষের দৃশ্য।