মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব
ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখাতে পুরোনো ছবি ব্যবহার হলো যেভাবে
This article is more than 6 months old

ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখাতে পুরোনো ছবি ব্যবহার হলো যেভাবে

মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব

আজ ৭ জানুয়ারি (রোববার) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক পুরোনো ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। মূলত ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখাতে আগে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার বা সংসদীয় উপনির্বাচনের সময় তোলা এসব ছবি ব্যবহার করা হয়।

যেমন, গাইবান্ধা গেজেট নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আজ সকাল ৯টার দিকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। যেখানে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং ছবিটির ক্যাপশন ছিল, “গাইবান্ধায় ভোট উৎসবের আমেজ, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন……”। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি আজকের নয়, বরং গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের যা ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর সময়ের আলো নামের একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

একই পেজে পোস্ট করা আরেকটি ছবিতে দাবি করা হয়, “গাইবান্ধা ৫ আসনে সকালে ভোট দিতে নারী ভোটারদের ঢল” নেমেছে। তবে সার্চ করে দেখা যায়, এটি গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) শূন্য আসনের উপনির্বাচনের ছবি, যা গত বছরের ৪ জানুয়ারি সময় টিভি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল। 

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা গেজেট নামের এই পেজের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার। এটি ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে খোলা হয়।  

একইভাবে, দ্য ডেইলি বাংলাদেশ নামের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল, “Voters queues being long even in winter morning”।  এর বাংলা দাঁড়ায়, “শীতের সকালেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন”। খবরটির সাথে যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ছবিটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবং এতে ৭ জানুয়ারি তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। 

একই ছবি আরো দুটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে যাদের শিরোনাম ছিল যথাক্রমে, “শীতের সকালেও দীর্ঘ হচ্ছে ভোটারদের লাইন” এবং “দীর্ঘ হচ্ছে ভোটারদের লাইন”। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটিও ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের। ছবিটি সে সময় (২৮ নভেম্বর ২০২১) ঢাকা পোষ্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল। 

সর্বশেষ তথ্যমতে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। পরে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বা কমতে পারে বলেও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। 

ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা বিক্ষোভ, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর উদাহরণ আছে। যেমন, গত ২৮ এবং ২৯ জুলাইয়ে সরকার-বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেদ্র করে একাধিক পুরোনো ছবি এবং ভিডিও নতুন প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। 

আরো কিছু লেখা