
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, দুবাই আক্রান্ত হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৪ সালেও ফেসবুকে পোস্ট হয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালেও ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস তাদের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সাম্প্রতিক দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করেছিল।
ফেসবুকে এবিএম সিরাজুল হোসেইন নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “আক্রান্ত দুবাই।” এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, পোস্টে অন্তত ৪ হাজার ৮০০ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ভিডিওটি ৮৯ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) পেজ ও গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। একই দাবিতে প্রচারিত একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “আক্রান্ত দুবাই! কাপুরুষের বাচ্চা কাপুরুষ। এটি পুরোপুরি একটি পর্যটন এলাকা। এই এলাকাকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালায়। ড্রো’নটি বুর্জ খলিফার কাছাকাছি জায়গায় আঘাত হানে।। যা একেবারেই বেসামরিক এটি স্থান। এখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই আর ছিলো না। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য খোমেনীর পতন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে” (বানান অপরিবর্তিত)। ইনস্টাগ্রামেও একই দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করতে দেখা যায়।
সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে এনডিটিভির ২০২৫ সালের ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আসে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “ভিডিও: অ্যাকশনে আয়রন ডোম, ইসরায়েলের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দৃশ্য।” এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “শুক্রবার গভীর রাতে তেল আবিবের দিকে ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফুটেজ শেয়ার করেছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আকাশ ইরানের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ভরে গেছে। ভূপৃষ্ঠে বা মাটিতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়।”

প্রতিবেদন থেকে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের পোস্টটি পাওয়া যায় তাদের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে। “অসম্পাদিত দৃশ্য: গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। আইডিএফ আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইরানকে হামলা চালানোর সুযোগ দিতে পারে না, এবং দেবেও না।” ২০২৫ সালের ১৪ জুন এই ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এই ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

দেখা যায়, এই পোস্টের সঙ্গেই এক্স ব্যবহারকারীরা কমিউনিটি নোট যোগ করে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান তথ্যযাচাইকারী সংস্থা অল্ট নিউজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়ের করেছিলেন তার এক্স ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিনে এ ব্যাপারে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটির ক্যাপশনে ছিল, “ভিডিওর প্রথম অংশটি ২০২৪ সালের। কেন বিভ্রান্ত করছে আইডিএফ?” এ পোস্টের কমেন্টে পাওয়া যায় একটি পোস্টের স্ক্রিনশট। যেখানে দেখা যায়, ব্রেন ওবলাক সেডি নামের একটি প্রোফাইল থেকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর মূল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল।
অধিকতর যাচাইয়ে ফেসবুকে ব্রেন ওবলাক সেডির প্রোফাইলে গিয়ে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবরে ভিডিওটি পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, “তেল আবিব।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এই ভিডিওটি সাদৃশ্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইসরায়েল এবং ইরান একে অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ২ অক্টোবর ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে অন্তত ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ইরান। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক (১, ২, ৩) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, দুবাইয়ে আক্রমণের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ১ বছরের বেশি পুরোনো এবং ভিন্ন স্থানের।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। চলমান এ সংঘর্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থাইরনা (ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি)।