
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক মিছিল বলে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। দাবি করা হচ্ছে, নয়াপল্টন মোড়ে দলটি নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি সাত মাসেরও বেশি পুরোনো।
গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “আজ নয়াপল্টন মোড়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।” ভিডিওর ভেতরে সম্পাদনা করে লেখা, “রাজধানীতে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ”, “আওয়ামীলীগে কি খেলা দেখাইল।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৭১ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। শেয়ার হয়েছে হাজারেরও বেশি।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় ব্যানার হাতে বেশ কয়েকজনের একটি মিছিল সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যানারে লেখা, “ফ্যাসিস্ট, খুনী, দুর্নীতিবাজ, দেশ বিক্রিকারী ইউনুস সরকার হটাও, বাংলাদেশ বাঁচাও”, “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”, “মুক্তিবাহিনী- ২০২৫।” স্লোগানে শোনা যায়, “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়িনাই”, “লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই”, “এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা।”
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে তা সংবাদমাধ্যম দৈনিক জনবাণীর ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ভিডিওর সঙ্গে মেলে। সংবাদমাধ্যমটি সেই ভিডিও শেয়ার করে গত বছরের ২৪ আগস্টে। ক্যাপশনে লেখা, “গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের মিছিল।” এই ভিডিওর শুরুর অংশের সঙ্গে বর্তমানের বলে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্য হুবহু মিলে যায়।
এছাড়া, একই দিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মিছিল নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “২৪ আগস্ট, ২০২৫। ঢাকার ব্যস্ততম গুলিস্তান এলাকায় শেখ হাসিনার কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল।” পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বর্তমানের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটির সঙ্গে এই ভিডিওতে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি, তাদের পোশাক, ব্যানার ও পারিপার্শ্বিক স্থাপনার হুবহু মিল রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর যাচাইয়ে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। এসব ভিডিওতেও দৃশ্যমান ঘটনার স্থান, ব্যানারের লেখা ও ব্যানার ধরে থাকা ব্যক্তিদের মিল পাওয়া যায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানী গুলিস্তানের মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিয়ে মিছিল করার চেষ্টা করলে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ।

অর্থাৎ, নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সাত মাসেরও বেশি পুরোনো।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে যাতে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। আর গত ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করে জাতীয় সংসদ। ফলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল।