নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check showing an AI-generated image falsely claiming Muhammad Yunus fixing the US ambassador’s shoes in Dhaka, shared on Facebook

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এই ছবি এআই দিয়ে বানানো

নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের একটি ছবি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। সে ছবিতে দাবি করা হচ্ছে, “রাষ্ট্রদূতের জুতা ঠিক করে দিচ্ছেন ড. ইউনূস।” তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো। 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি “দুঃসময়ের আওয়ামী লীগ” নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ছবিটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “বাংলাদেশের প্রধান হয়ে সুদি এনুচ আমেরিকার চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী রাষ্ট্রদূতের জুতা ঠিক করে দিতেছে। হায়রে পা চাটা গোলাম সুদি এনুচ” (বানান অপরিবর্তিত)। 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিন হাজারের বেশি ব্যবহারকারী। সেখানে কেউ মন্তব্য করেছেন, “টিকে থাকার জন্য যা করা দরকার।” আরেকজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনগণকে ছোট করা হলো।” ফেসবুকের একাধিক (, ) গ্রুপ থেকেও একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। 

ছবিটিতে দেখা যায়, ড. ইউনূস তার নিজ চেয়ার থেকে নেমে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পা ধরে আছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পেছনে প্রধান উপদেষ্টার লোগোযুক্ত পতাকা দেখা যায়। পতাকাতে “প্রধান উপদেষ্টা” লেখায় কিছু অসঙ্গতি আছে। “প্রধান” শব্দ গঠনে এমন কিছু অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে যার সঙ্গে বাংলা বর্ণমালার কোনো অক্ষরের মিল নেই। এমন অসঙ্গতি সাধারণত এআই দিয়ে বানানো ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়।

ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে একাধিক (, , , , ) সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২৩ জানুয়ারি প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মুহাম্মদ ইউনূস এ মন্তব্য করেন।” 

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির ক্যাপশনে লেখা, “রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।” ছবিটির ক্রেডিট হিসেবে “প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং” লেখা হয়। অধিকতর যাচাইয়ে গত ২৩ জানুয়ারি ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ভেরিফায়েড পেজেও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টেও প্রতিবেদনের ছবিটি দেখা যাচ্ছে। 

পোস্ট এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ব্যবহৃত ছবিটিতে ড. ইউনূস এবং ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায় এবং ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। তবে কোনো ছবিতেই ড. ইউনূসকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পায়ের কাছে বসে থাকতে দেখা যায়নি। 

পরবর্তীতে কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল এআইঅরনট দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।

অর্থাৎ, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের জুতা ঠিক করে দিচ্ছেন ড. ইউনূস দাবিতে ছড়ানো ছবিটি আসল নয়, বরং এআই দিয়ে তৈরি। 

আরো কিছু লেখা