
নামাজের সময় ভবন ধসে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন, এবং আহত ৭৪জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এমন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এবং যে ছবি দেখানো হচ্ছে, সেটি ইন্দোনেশিয়ার একটি দুর্ঘটনার দৃশ্য।
“সহীহ বুখারী” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে নাম গোপন রেখে এক ব্যবহারকারী একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেছেন। একটি ধসে পড়া বিল্ডিংয়ের ছবিযুক্ত সে ফটোকার্ডে লেখা, “নামাজ চলাকালীন ধ/সে পড়ল মাদ্রাসা ভবন, নি/হ/ত বেড়ে ৩৬ জন!” ক্যাপশনে লেখা আছে, “ব্রেকিং নিউজ:নামাজ চলাকালীন সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেলকিভাবে বিল্ডিংটি ধসে পড়লো আজ দুপুর ১.৩০ মিনিটে,মারা গেল৩৬ জন আহত ৭৪জন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি,আল্লাহ কি মর্মান্তিক দৃশ্য, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ কমেন্টে দেওয়া আছে।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে সাত হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ও পাঁচ শর বেশি মন্তব্য জানানো হয়েছে।
সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স সার্চ দিলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই ছবি সম্বলিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সিদোরাজো শহরের আল-খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের (মাদ্রাসা)। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির সত্ত্ব রয়টার্সের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে শিক্ষার্থীদের নামাজের সময় সেখানে একটি হলঘর ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ছবিটি মূলত সেই উদ্ধারকাজের দৃশ্য।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দুপুরের নামাজের সময় ভবনটির ওপরের তলায় চলমান নির্মাণকাজের ভার সইতে না পেরে এটি শত শত কিশোর শিক্ষার্থীর ওপর ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা।
এছাড়াও ঘটনাটি নিয়ে আরও একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই ছবি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে (১, ২, ৩)।
অর্থাৎ, ছবিটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার দৃশ্য নয় এবং ওই ঘটনার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল বা বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত এটি ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে ঘটা পুরোনো একটি দুর্ঘটনার ছবি।