তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: A viral Facebook photocard falsely claims that Mirza Fakhrul Islam Alamgir said extortion has permanently stopped in Bangladesh after BNP came to power; verification shows he made no such comment.

চাঁদাবাজি নিয়ে মির্জা ফখরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য দাবিতে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ছড়াতে দেখা গেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, তিনি জানিয়েছেন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশে চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে এমন কোনো মন্তব্য করেননি এই রাজনীতিবিদ।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে মির্জা ফখরুলের মন্তব্য দাবিতে আলোচিত ফটোকার্ডটি ছড়াতে দেখা যায়। একই ফটোকার্ড শেয়ার করা হয় একাধিক প্রোফাইল (, ), পেজ (, ) ও গ্রুপ (, , ) থেকে। মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে ফটোকার্ডে।

Fact-check: A viral Facebook photocard falsely claims that Mirza Fakhrul Islam Alamgir said extortion has permanently stopped in Bangladesh after BNP came to power; verification shows he made no such comment.
ভুয়া উক্তিসহ ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ডের পোস্টের স্ক্রিনশট।

ছবির ঠিক নিচে লেখা, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশে চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।” আর মন্তব্যটি মির্জা ফখরুলের মন্তব্য বোঝাতে নিচে তার নাম লেখা হয়েছে। কিছু পোস্টের ক্যাপশনে একই দাবিতে লেখা, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশে চাঁ’দা’বা’জি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম।” এছাড়া একই মন্তব্য লিখিত কিছু পোস্টেও (, , ) দেখতে পাওয়া যায়। 

খোঁজ করে দেখা যায়, এই ফটোকার্ডটি প্রথম পোস্ট করা হয় “আশার আলো” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। এখন পর্যন্ত সেখানে ২০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন; মন্তব্য করেছেন প্রায় ৪ হাজার। আর পোস্টটি শেয়ার করেছেন পাঁচ শরও বেশি ব্যবহারকারী।

মির্জা ফখরুলের আসল বক্তব্য ধরে নিয়ে অনেকে সেখানে তাকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মিথ্যা বলতে বলতে এমন হয়েছে ইচ্ছা করলেও সত্য বলতে পারে না।” আবার আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, “রমজান মাস তার পরেও মিথ্যা কথা বলেন আখেরাত কে একটু ভয় করেন, ক্ষমতা ও জীবন চিরস্থায়ী না।”

“আশার আলো” ফেসবুক পেজটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো রকমের সূত্র উল্লেখ না করেই সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনীতিবিদদের মন্তব্য দাবিতে ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। 

ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যটির সত্যতা যাচাইয়ে, শুরুতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে একাধিক কিওয়ার্ড সার্চ করেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য কিংবা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায় না। চাঁদাবাজি নিয়ে এই বিএনপি নেতা কিছু বলেছেন কি না, তা যাচাই করতে তার ভেরিফায়েড পেজটিও খুঁজে দেখা হয়।

এ সম্পর্কিত শেষ পোস্টটি পাওয়া যায় গত ১৯ নভেম্বর। সেখানে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায়-অপরাধ বা যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে একটি ওয়েবসাইট বানিয়েছেন তিনি। আর এমন সমস্যার কথা সেই ওয়েবসাইটেই জানাতে বলছেন। তবে আলোচিত ফটোকার্ডে উল্লেখ করা মন্তব্য পেজটিতে পাওয়া যায়নি।

এরপর ফটোকার্ডে দেখতে পাওয়া ছবিটির উৎস খুঁজতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের অনলাইন প্রতিবেদন (, , ) সেই ছবিটি পাওয়া যায়। হুবহু একই ছবি ব্যবহার করে গত ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আলাপকালের দৃশ্য সেটি।

Fact-check: A viral Facebook photocard falsely claims that Mirza Fakhrul Islam Alamgir said extortion has permanently stopped in Bangladesh after BNP came to power; verification shows he made no such comment.
ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আলাপ নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত একটি ভিডিওতে মির্জা ফখরুলকে কথা বলতেও শোনা যায়। ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। এছাড়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরনাগরিক টিভি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একই ছবিযুক্ত ফটোকার্ড প্রকাশ করে, তবে সেগুলোও ছিল একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেই; চাঁদাবাজি নিয়ে নয়। 

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের মন্তব্য মির্জা ফখরুল ইসলামের নয়। এমন কোনো মন্তব্য করেননি তিনি এবং সেখানে ব্যবহার করা ছবিও ভিন্ন একটি ঘটনার। 

আরো কিছু লেখা