
বাংলাদেশের এক মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন করা হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও শেয়ার হতে দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যম এক্সে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়; পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুনে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মাদ্রাসার সেই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ। এছাড়া এক বছর আগেও ভিডিওটি বাংলাদেশের বলে ছড়িয়ে পড়লে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একাধিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ১৬ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশুকে পায়ে বেঁধে উল্টা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা, “বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন।” পোস্টটি পাঁচ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে, রিপোস্ট করা হয়েছে শতাধিক বার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “তারেক রহমান কি দেখতে পান না? এটা কি শরীয়া আইন?” আরেকজন বলছেন, “বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে গেছে।”
একই ভিডিও তসলিমা নাসরিন পোস্ট করেছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও। ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটি কোন দেশের, তার উল্লেখ না থাকলেও এটি বাংলাদেশের ভেবে মন্তব্য করে একজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” আরেকজন লিখেছেন, ‘সারা বিশ্ব কি ঘুমাচ্ছে। ছি : বাংলাদেশ “!!” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি নব্বই হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে আট শতাধিক বার।
একই ঘটনার ১৮ সেকেন্ডের ভিডিও এক্সে পোস্ট করেছেন ব্লিটজ এর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, যৌনদাসের মতো ব্যবহৃত হতে রাজি হয়নি বলে বাংলাদেশের মাদ্রাসার এই ছাত্রকে নির্যাতন করা হচ্ছে।

ক্যাপশনে তিনি ইংরেজিতে লিখেছেন, “বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসা থেকে আসা আরেকটি অত্যন্ত ভয়াবহ ভিডিও, যেখানে এক ছাত্রকে সন্ত্রাসীর মতো নির্যাতন করা হচ্ছে, কারণ সে শিক্ষকদের যৌনদাস হতে রাজি হয়নি। আমার মতে, মাদ্রাসার ছাত্ররা যে নিছক দানবে পরিণত হচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই ধরনের মানসিক, শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—মাদ্রাসায় শিক্ষিত এক বিশাল সংখ্যক দানব ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ইসলামি শিক্ষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রবেশ করছে। এদের মস্তিষ্ক এবং চিন্তা-ভাবনা আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে শহীদ হয়ে মুসলিম স্বর্গে গিয়ে ৭২ জন হুর (কুমারী) ও অল্পবয়সী বালক পাওয়ার চিন্তায় বিষাক্ত হয়ে আছে।”
এক্সের এই পোস্টটি এক লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে ৭৫০ বারের বেশি। একই দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রায় একই ক্যাপশনে শেয়ার করা হয়েছে ফেসবুকেও।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে বিভিন্ন পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, মূল ঘটনা পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির একটি মাদ্রাসার। ২০১৯ সালের জুনে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মাদ্রাসার সেই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ।

গত বছরের জুনে একই দাবিতে অর্থাৎ বাংলাদেশের বলে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এএফপি ফ্যাক্টচেক ও রিউমর স্ক্যানার।
অর্থাৎ, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পাকিস্তানের, বাংলাদেশের নয়।