
ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহির বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে— এখনো জীবিত আছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওতে কোথাও তার বেঁচে থাকার দাবি করা হয়নি।
সম্প্রতি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে থাকার দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। আওয়ামী লীগ পরিবার নামে এক ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “আলহামদুলিল্লাহ আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো জীবিত আছেন! ইনশাআল্লাহ ইরান পৃথিবীর বুকে একটি ইতিহাস করে যাবে ” (বানান অপরিবর্তিত)।

ভিডিওতে ভারতীয় গণমাধ্যম এএনআই (এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল), এনডিটিভি ও সংবাদ সংস্থা পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট ইন্ডিয়া) এর বুম দেখা যায়। এ পর্যন্ত ভিডিওটি তিন শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে, দেখা হয়েছে ৩৬ হাজার বারের বেশি।

কিফ্রেম ও কিওয়ার্ড সার্চে ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এএনআই এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে একই ফ্রেমের একাধিক ভিডিও (১, ২) প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলেও একই ভিডিও পাওয়া যায়। এছাড়াও পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ তাদের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডে র পর ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহির বক্তব্যের ভিডিও এটি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ৪ মিনিটের মূল ভিডিওর ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত নিয়ে ১ মিনিটের খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে।

এক মিনিটের এই ইংরেজি বক্তব্যের বাংলা— “আসলে আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রতিদিন তার অফিসেই যেতেন এবং বেশ কয়েকবার নিরাপত্তা বাহিনী তাকে তার অফিস থেকে অন্য কোনো শহরে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, যদি আপনারা ৯ কোটি ইরানিকে অন্য শহরে সরিয়ে নিতে পারেন, তবে আমি সেই ৯ কোটির পরে যাব। স্পষ্টতই তারা সেটা করতে পারত না। তারা তাকে বলেছিল, আমরা আপনার নিরাপত্তার জন্য বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ কক্ষের ব্যবস্থা করব। তিনি বলেছিলেন, যদি আপনারা সব ইরানির জন্য বেজমেন্ট তৈরি করে দিতে পারেন, তবে হ্যাঁ, আমিও সেই ৯০ কোটির পরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা সকল ইরানির জন্য তা করতে পারত না। তাই তিনি তাঁর অফিসেই, তার বাড়িতেই অবস্থান করেন। এবং সকালে জায়নবাদী গোষ্ঠী ও আমেরিকার বিমানগুলো…।”
অর্থাৎ, বক্তব্যের এই অংশে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বেঁচে থাকার কোনো দাবি করেননি। বরং মূল বক্তব্যের শুরুতে তিনি আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরটি গত ১ মার্চ নিশ্চিত করেছে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি)। এরপরও পুরোনো একটু ভিডিও ছড়িয়ে বেঁচে থাকার দাবি করা হয়। এ নিয়ে এরই মধ্যে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।