
যমুনা টিভির নামে দুইটি ফটোকার্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, তারেক রহমানের সমাবেশ থেকে মাইক চুরির সময় উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য একটি ফটোকার্ডে প্রচার করা হচ্ছে, মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী জামায়াতের অন্তঃকোন্দলে গত দেড় বছরে ১,৭০০ খুন হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, যমুনা টিভির নামে ছড়ানো উভয় ফটোকার্ডই ভুয়া।
ফেসবুকে একটি গ্রুপ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রথম ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। যমুনা টিভির আদলে বানানো ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “তারেক রহমানের সমাবেশ থেকে মাইক চুরির সময় উপজেলা শিবিরেরে সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার”। ফটোকার্ডে মাঠে মাইক নিয়ে এক ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত রয়েছে। কার্ডের নিচে যমুনা টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “চোরেরা এখন ধর্মের কাহিনী শোনায় ..কি দিন আঁইল….!” ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (১, ২, ৩, ৪) এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে (১, ২, ৩, ৪) একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কার্ডে লেখা ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টেরও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
চট্টগ্রামে তারেক রহমানের জনসভার আগের রাতে মাইক চুরির ঘটনা ঘটলেও, এর প্রেক্ষিতে উপজেলা শিবিরেরে সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো প্রমাণ বা খবর কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৭ জানুয়ারি আরেকটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। যমুনা টিভির নামযুক্ত ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো সংযুক্ত করে ভেতরে লেখা, “জামায়াতে ইসলামীর অন্তকোন্দলে গত দেড় বছরে ১৭০০ খুন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট।” এ ক্ষেত্রেও কার্ডের নিচের দিকে যমুনা টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক পেজ ও সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলের লিংক উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা, “সবাই শেয়ার করে দিন দ্রুত।” ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) থেকে একই ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে করতে যমুনা টেলিভিশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যমুনা টিভির কার্ডের সঙ্গে প্রচারিত কার্ডের ফন্টেরও অমিল লক্ষ্য করা যায়।

গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট যাচাই করে, মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে অন্তঃকোন্দলে গত দেড় বছরে জামায়াতের ১৭০০ খুন হয়েছে- এমন কোনো প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডগুলোর প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত জানতে যমুনা টেলিভিশনের সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ডিসমিসল্যাবকে জানিয়েছেন, প্রচারিত ফটোকার্ড দুটো যমুনা টিভির নয়।
অর্থাৎ, চট্টগ্রামে তারেক রহমানের সমাবেশ থেকে মাইক চুরির সময় উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী জামায়াতের অন্তঃকোন্দলে গত দেড় বছরে ১৭০০ খুন হয়েছে এমন দাবিতে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত দুইটি ফটোকার্ডই ভুয়া।