মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
A fact-check shows that a viral Facebook photocard claiming a Jamaat-e-Islami leader was caught in an illicit act on CCTV actually features Islami Andolon Bangladesh leader Maulana Shahadat Hossain Jamil from Ramgati.

সিসি ক্যামেরার ব্যক্তি জামায়াতের নয়, ইসলামী আন্দোলনের নেতা

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

নারীর সঙ্গে জামায়াত নেতার অবৈধ কর্ম দাবিতে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, সিসি ক্যামেরার দৃশ্যে থাকা ওই ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা।

“রঙ পেন্সিল নামে”র একটি ফেসবুক পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “জামাত নেতার আকাম সিসি ক্যামেরায় ধরা…লিংক কমেন্টে”।

A fact-check shows that a viral Facebook photocard claiming a Jamaat-e-Islami leader was caught in an illicit act on CCTV actually features Islami Andolon Bangladesh leader Maulana Shahadat Hossain Jamil from Ramgati.
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ড পোস্টের স্ক্রিনশট।

এছাড়াও পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভিডিওর একটি টেলিগ্রাম লিংক দেওয়া হয়। লিংকে ক্লিক করে “বিএনপি সাইবার সিকিউরিটি সেল” নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে ২ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

A fact-check shows that a viral Facebook photocard claiming a Jamaat-e-Islami leader was caught in an illicit act on CCTV actually features Islami Andolon Bangladesh leader Maulana Shahadat Hossain Jamil from Ramgati.
“বিএনপি সাইবার সিকিউরিটি সেল” নামের টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা ভিডিও পোস্টের স্ক্রিনশট।

সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে সংবাদমাধ্যম এনটিভির ফেসবুক পেজইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “রামগতিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল।” বিস্তারিত প্রতিবেদনেও ওই ব্যক্তির পদ উল্লেখ করে তাকে ইসলামী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

A fact-check shows that a viral Facebook photocard claiming a Jamaat-e-Islami leader was caught in an illicit act on CCTV actually features Islami Andolon Bangladesh leader Maulana Shahadat Hossain Jamil from Ramgati.
সংবাদমাধ্যম এনটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, “রামগতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহাদাত হোসেন জামিলের আপত্তিকর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয় জনগণ ও নেটিজেনদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উপজেলা শাখার সভাপতি কামাল উদ্দিন তাহেরী জানান, এরকম একটা ভিডিও দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পরই তারা দলের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন।” 

প্রতিবেদনের পরের অংশে এনটিভিকে দেওয়া কামাল উদ্দিন তাহেরীর বক্তব্য শোনানো হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “একটা ভিডিও আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পরই আমরা আমাদের জেলাসহ ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলরা বসছি এ বিষয়ে। বসার পরে আমাদের দুই সদস্য বিশিষ্ট একটা তদন্ত টিম গঠন করা হইছে। উনারা তদন্ত করতেছেন। এর আগেই আমরা সাময়িকভাবে উনার পদ স্থগিত রেখেছি এবং পদ থেকে সাময়িকভাবে উনাকে অব্যাহতি দিয়েছি। আর ওই পত্রটা আমাদের টাইপিং চলতেছে, এই টাইপিং আসলেই আমরা আপনাদেরকে দিব, সমস্যা নেই।”

এছাড়াও প্রতিবেদনে শাহাদাত হোসেন জামিলের স্ত্রী উল্লেখ করে এক নারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে ওই নারী বলেন, “আমি উনার… ৬ বছর বিয়ে হইছে। মার্চ মাসের ১২ তারিখ, ২০ সালে বিয়ে হইছে। ৬ বছর হইছে। আমি তো সবসময় এখানে আসি, এমনকি থাকি, রেস্ট নিই, অনেক সময় অনেক কিছু হয়। এইটা নিয়ে মানুষে অনেকটা, অনেক কিছুই বলে। এটা আমি বিচার চাই। আমার স্বামীর প্রতিষ্ঠানের মান সম্মান গেছে, আমি এটার বিচার চাই।” একই প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন শাহাদাত হোসেন জামিলও।

অর্থাৎ, সিসি ক্যামেরার দৃশ্য আকারে ছড়ানো ছবিতে থাকা ব্যক্তি জামায়াতের নয়, বরং  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা।


আরো কিছু লেখা