নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check shows old images falsely shared claiming Israeli soldiers hiding in bunker in fear of Iranian missiles and drones.

ইসরায়েলি সৈন্যদের বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার দাবিতে পুরোনো ছবি প্রচার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইসরায়েলি সৈন্যরা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ভয়ে বাঙ্কারে লুকিয়ে আছে – দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি দুটি ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ছবি দুটি মূলত একটি ভিডিও থেকে নেওয়া এবং অন্তত দুই বছর পুরোনো ঘটনার দৃশ্য। একাধিক মিডিয়া সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি ২০২৩ সালে ইসরায়েলি সৈন্যদের প্রার্থনার দৃশ্য।

নিজেদের নিউজ এবং মিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচয় দেওয়া প্রতিদিন সকাল নামের একটি ফেসবুকের একটি পেজ থেকে ১৬ মার্চ দুটি ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “সৈনিক না ইঁদুর ইসরায়েলি সৈন্যরা যারা গাজায় নারী ও শিশুদের হ/ত্যা করার জন্য এত “সাহসী” এবং “সাহসী” ছিল, তারা এখন যু/দ্ধে যাওয়ার পরিবর্তে ইরানি ক্ষে/পণ|স্ত্র এবং ড্রোনের ভয়ে প্রার্থনা এবং কাঁদতে কাঁদতে বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকে” (বানান অপরিবর্তিত)। প্রকাশিত ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা হয়, “ইসরাইলী সৈন্যরা শিশু ধর্ষণে সাহসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে প্রার্থনা।” এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ১ হাজার ৩০০ এর বেশি।

Fact-check shows old images falsely shared claiming Israeli soldiers hiding in bunker in fear of Iranian missiles and drones.
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টের স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, , , ) এবং পেজ থেকে একই দাবিতে ছবিদুটি পোস্ট করা হয়। ইনস্টাগ্রামেও (, ) ছবি দুটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (, ) খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বরে একাধিক ইসরায়েলি মিডিয়া সংস্থায় এসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে যে ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, তা ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

Fact-check shows old images falsely shared claiming Israeli soldiers hiding in bunker in fear of Iranian missiles and drones.
ছবির মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ইসরায়েলি মিডিয়া সংস্থা হিদাব্রুতের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোর দৃশ্য দেখা যায়। এ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “রোমাঞ্চকর: শত শত সৈন্য একসঙ্গে গাইছেন ‘আমি মসিহের আগমনে বিশ্বাস করি’।” অন্য এক মিডিয়া সংস্থা ‘চ্যানেল ২০০০’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়, “সমাবেশ কক্ষে উপস্থিত শত শত যোদ্ধার মনোবল বাড়াতে এক আবেগঘন মুহূর্তে, সৈন্যরা দাঁড়িয়ে বিশ্বাস ও আস্থার এক হৃদয়স্পর্শী গান গাইতে শুরু করেন – দেখুন সেই মুহূর্তটি।” 

এছাড়া ফেসবুকে হানানয়া নাফতালি নামের ভেরিফায়েড পেজ থেকে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ভিডিওটি প্রচার করা হয়। এ পোস্টেও দাবি করা হয়, ইসরায়েলি সৈন্যরা গান গাইছেন। 

Fact-check shows old images falsely shared claiming Israeli soldiers hiding in bunker in fear of Iranian missiles and drones.
হানানয়া নাফতালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা আসল ঘটনার ভিডিওর পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, ইসরায়েলি সৈন্যরা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ভয়ে বাঙ্কারে লুকিয়ে আছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে অন্তত দুই বছর পুরোনো।

এর আগেও ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

আরো কিছু লেখা