
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দিল্লিতে ভারত-ইসরায়েল ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি একাধিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি ভুয়া। যাচাইয়ে দেখা যায়, মূল ঘটনাটি চলতি বছরের ১১ মার্চ রাতে ভারতের দিল্লির উত্তম নগরের একটি মাছের বাজারে অগ্নিকান্ডের দৃশ্য।
ফেসবুকের এক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১২ মার্চ একটি ভিডিও (আর্কাইভ লিংক) পোস্ট করা হয়। ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সামনে একটি স্থানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সেখান থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে। চারপাশে অনেক মানুষের জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। এছাড়া আশেপাশে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে সাইরেনের শব্দ।। ভিডিওর ওপরে ডানকোণে লাল রঙের ইংরেজি হরফে লেখা “পিটিআই’’। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “জরুরি সংবাদ: দিল্লীর কাছে ভারত‑ইসরায়েল যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রের উপর হামলা দিল্লি – প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, “নক্সালি” বিদ্রোহীরা দিল্লীর কাছে ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কারখানার ভিতরে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায় এবং সমগ্র সংস্থাপনা ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ভারতীয় এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়েছে। এখনও ঘটনার স্থল থেকে ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আগুন নেভানোর ও জরুরি উদ্ধার অভিযান চলাকালীন মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই হামলা ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রকল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়নি।’’ (লেখা অপরিবর্তিত)

ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকেও একই দাবির ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে, কয়েকটি কিফ্রেম ধরে সার্চ করলে চলতি বছরের গত ১২ মার্চ ‘প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার’ ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “উত্তম নগরের মাছ বাজারের কাছেই ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভানোর কাজ চলছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে’’ ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে ভারত-ইসরায়েল ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

অধিকতর যাচাইয়ে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দেখা যায়, একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে অনলাইন (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ও ভিডিও (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১১ মার্চ বুধবার গভীর রাতে দিল্লির উত্তম নগরের মাতিয়ালা গ্রামের একটি মাছ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। রাত ১১:৫০ নাগাদ যখন বিক্রেতারা তাদের দোকান গোছাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের বেশ কয়েকটি বস্তিতে। দমকলকর্মীরা সারা রাত চেষ্টা করে বৃহস্পতিবার ভোররাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ঝুপড়ি ঘর এই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানতে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

অর্থাৎ, দিল্লিতে অবস্থিত ভারত ও ইসরায়েল ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে বিস্ফোরণের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সঠিক নয়। মূলত এটি দিল্লির উত্তম নগরের একটি মাছের বাজারে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য।

ভিডিওটি বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সামাজিক মাধ্যমে একই দাবিতে প্রচার করা হলে একাধিক ভারতীয় তথ্যযাচাইকারী সংস্থা (১, ২) এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।