
একটি ভবনের একতলা ও দোতলার একাংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। বেশ কিছু মানুষকে তাড়াহুড়া করে ভবন থেকে দূরে সরে যেতে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি এমন দৃশ্যের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলের একটি ক্যাফেতে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ইসরায়েলের নয়। ২০২৫ সালের ১৩ মে, দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়া অগ্নিকাণ্ডের একটি দৃশ্য ভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৬ মার্চ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি ভবনে আগুন লেগেছে। লোকজন আশেপাশের ভবনগুলো থেকে ছুটে রাস্তায় বেরিয়ে এসে নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছেন। অডিওতে মানুষের চিৎকার আর দমকল বাহিনীর গাড়ির সাইরেন শোনা যাচ্ছে।

ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “#ইসরাইলের একটি ক্যাফেতে অনেক নারী মিসাইল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৪০ হাজারের অধিক দেখা হয়েছে এবং ১১০ বার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে ব্যবহারকারীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রায় ১১০০বার।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব ২০২৫ সালের ১৩ মে আদিল রাজপুত নামের পেজ থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পায়। ক্যাপশনে লেখা, “গতরাতে দুবাইয়ের আল বারশা পার্ল ভিউ ক্যাফেটেরিয়ায় আগুন লেগেছিল। আক্রান্ত সবাই নিরাপদ আছেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং আটকে পড়া সকল ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।” একই ভিডিও ওই ব্যক্তির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট হতে দেখা যায়। ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির সাথে ইসরায়েলের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে দেখা যায়, দুবাইয়ের সংবাদ মাধ্যম (১, ২) ও অনলাইন মাধ্যমে (১, ২, ৩) ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে, মধ্যরাতে দুবাইয়ের মল অফ এমিরেটসের পাশে পার্ল ভিউ নামের একটি রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পুরো দোকান বিস্ফোরিত হয়। জানা যায়, সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অর্থাৎ, ইসরায়েলে মিসাইল হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে গত বছর দুবাইয়ে একটি রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। উল্লেখ্য, ভিন্ন স্থানের পুরোনো ভিডিওকে ইসরায়েলের বর্তমান দৃশ্য দাবি করে এর আগেও ভুল তথ্য ছড়াতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ডিসমিসল্যাব একাধিক ফ্যাক্টচেক করেছে।