
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বরে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের একটি শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের দৃশ্যের।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে তালাবিবে রাসায়নিক কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ” (বানান অপরিবর্তিত)। এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি। ৩৪ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে এই ভিডিও।

১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বিস্ফোরণের পর সেখানে থাকা বেশ কিছু ব্যক্তি দৌড়ে চলে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ ব্যক্তির মাথায় নীল রঙের ক্যাপ পড়া। ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং গ্রুপ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয় একই দাবিতে।
সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ১৭ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি শর্টস আসে। শর্টসটির শিরোনাম ছিল, “বুয়েনস আইরেসের একটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণের ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে পরিবেশগত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।”
বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের এজেজা এলাকার স্পেগাজিনি শিল্প পার্কে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে সেখানকার রাসায়নিক কারখানা এবং গুদামগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এ ভিডিওটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

যাচাইয়ে একাধিক (১, ২, ৩) ইউটিউব ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে বিস্ফোরণের দৃশ্যটি দেখা যায়। নাইন গ্যাগ তাদের ওয়েবসাইটে ভিডিওটি পোস্ট করে “স্পেগাজিনিতে এখন, বুয়েনস আইরেস আর্জেন্টিনা” ক্যাপশনে।
অধিকতর যাচাইয়ে একাধিক (১, ২, ৩) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সামনে আসে। বুয়েনস আইরেস টাইমসের ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, “২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের এজেজা এলাকার একটি শিল্পাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ বুয়েনস আইরেসের ওই শিল্পাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ২২ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

অর্থাৎ, আর্জেন্টিনার পুরোনো ভিডিও ছড়াচ্ছে ইসরায়েলের রাসায়নিক কারখানায় ইরানের হামলার দাবিতে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা করেছে ইরান। এবং এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ।
ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে পূর্বেও একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।