আহমেদ ইয়াসীর আবরার

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check report on the false claim that Jamaat leader Dr AHM Hamidur Rahman Azad’s candidacy was reinstated in the Cox’s Bazar-2 constituency.

জামায়াত প্রার্থী আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করার দাবিটি সত্য নয়

আহমেদ ইয়াসীর আবরার

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়। গত ২ জানুয়ারি, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করার পর এখনো পর্যন্ত সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়নি।

“দাঁড়ি পাল্লা” নামের একটি প্রোফাইল থেকে ৪ জানুয়ারি একটি পোস্টে দাবি করা হয়, “কক্সবাজার–০২ আসনে ডা. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ–এর প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়েছে।” পোস্টের ছবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের ছবিও যুক্ত করা হয়। পোস্টটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার বার শেয়ার হয়েছে। একই দাবিতে একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে পোস্ট (, , ) হতে দেখা যায় ফেসবুকে।

ঘটনার সত্যতা জানতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। ওয়েবসাইটে কক্সবাজার-২ আসনে মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় হামিদুর রহমান আযাদের নাম দেখা যায় না। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য দিয়েই যাচাই করতে।

প্রসঙ্গত, গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর সন্ধ্যায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। এ নিয়ে প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্দুল মান্নান বলেছেন মনোনয়নপত্রে তথ্যের গড়মিল থাকায় কক্সবাজার জেলার দুই আসনে মোট চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামিদুর রহমান আযাদ একজন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা।

মনোনয়ন বাতিলের পর একই দিন রাত ১১টায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।” এছাড়া যে মামলাটির কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে সেটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই বিষয়ে আরও জানতে ডিসমিসল্যাব যোগাযোগ করে হামিদুর রহমান আযাদের সহকারী মুবিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনিও এই দাবি সত্য নয় বলে নিশ্চিত করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুরু হয়েছে আজ, ৫ জানুয়ারি থেকে। এই আপিল চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন।

অর্থাৎ, হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল বা মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সত্য নয়। এখনো পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আরো কিছু লেখা