তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check showing AI-generated videos falsely claim Osman Hadi murder suspects Faisal Karim Masud and Alamgir Hossain were arrested in India.

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই আসামি গ্রেপ্তারের একাধিক এআই ভিডিও প্রচার

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার— এই দাবিতে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। 

ঝিনেদার খবর নামে এক ফেসবুক পেজ থেকে ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “ওসমান হাদী হ’ত্যা’র প্রধান দুই আসামি ভারতে গ্রে’ফ’তা’র”! ভিডিওতে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পোস্টটি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯২ বার শেয়ার করা হয়েছে, ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার বার।

Fact-check showing AI-generated videos falsely claim Osman Hadi murder suspects Faisal Karim Masud and Alamgir Hossain were arrested in India.
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

একই ভিডিও থেকে ১৫ সেকেন্ড নিয়ে মিরর করে প্রচার করা হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। ভিডিওতে লেখা, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার ওসমান হাদীর হত্যাকারী ফয়সাল সহ ২ জন” (বানান অপরিবর্তিত)। এ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৬১ হাজার বারের বেশি, পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে ৩৮ বার। 

ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওর শুরুতেই একজন পুলিশ কর্মকর্তা আশেপাশের সাংবাদিকের মতো ক্যামেরা কাঁধে এগিয়ে আসছেন। তবে পরক্ষণেই ক্যামেরা বদলে সাংবাদিকের বুম হয়ে যায়। বুম হাতেই এগোতে থাকে ওই কর্মকর্তা। এসব অসঙ্গতি লক্ষ্য করার পর ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল ডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। 

Fact-check showing AI-generated videos falsely claim Osman Hadi murder suspects Faisal Karim Masud and Alamgir Hossain were arrested in India.
ডিপফেক-ও-মিটার টুলের যাচাই ফলাফলের স্ক্রিনশট।

আরেকটি ভিডিও ছড়িয়েছে একই দাবিতে। ভিডিওতে লেখা, “আলহামদুলিল্লাহ  ভারতের বনগাঁও থেকে হাদি হ*ত্যা*র প্রধান আ*সামি গ্রে/ফ*তার,ফয়সল করিম মাসুদ।” ভিডিওতে দেখা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ১২ সেকেন্ডের এই ভিডিও-এর ৬ সেকেন্ডে হঠাৎ একজন পুলিশের টুপি পাল্টে যেতে দেখা যায়। এছাড়াও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পেছনের কয়েকজনের চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। একই ফ্রেমের একটি ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশনডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। 

Fact-check showing AI-generated videos falsely claim Osman Hadi murder suspects Faisal Karim Masud and Alamgir Hossain were arrested in India.
হাইভ মডারেশন ও ডিপফেক-ও-মিটার টুলের যাচাই ফলাফলের স্ক্রিনশট।

অন্য এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হাতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ। ১৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও-এর ক্যাপশনে লেখা, “শহীদ ওসমান হাদি হ*ত্যা*র প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রে/ফতার।” ভিডিওতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বলতে শোনা যায়, “দেশবাসী, এই মুহূর্তে এমপি আনার হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে আমরা ভারতের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছি। এখনই আমরা তাকে আইনি হাজতে প্রেরণ করব। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের পর পরই এর সর্বোচ্চ বিচারের কার্যক্রম শুরু করবো। আপনারা ভিডিওটি সর্বোচ্চ শেয়ার করে সারা দেশের মানুষকে জানার সুযোগ করে দেবেন।”

তবে ভিডিওটির ১২ সেকেন্ডে পেছন থেকে হেঁটে আসা একজনকে  হঠাৎ উধাও হয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিও-এর সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। হাইভ মডারেশনডিপফেক-ও-মিটার উভয় টুল জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। 

Fact-check showing AI-generated videos falsely claim Osman Hadi murder suspects Faisal Karim Masud and Alamgir Hossain were arrested in India.
হাইভ মডারেশন ও ডিপফেক-ও-মিটার টুলের যাচাই ফলাফলের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তব নয়।

প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ।

আরো কিছু লেখা