
ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী ও বর্তমান মহিলা জামায়াতে ইসলামের নেত্রী ইলোরা হাওলাদারকে শরিয়তপুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে দাবিতে সম্প্রতি একটি পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদার ছাত্রীসংস্থা বা মহিলা জামায়াতে ইসলামী নয়, বরং ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
ফেসবুকের একটি প্রোফাইল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নারীর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না ওরা কী প্ল্যান করছে। ছাত্রীসংস্থার সাবেক নেত্রী ও বর্তমান মহিলা জামায়াতে ইসলামের নেত্রী ইলোরা হাওলাদারকে শরিয়তপুর থেকে ২টা একে-২২ সেমি অটোমেটিক রাইফেল (আবারো পড়েন), গুলি ও অন্যান্য অস্ত্র সহ আটক করা হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহেও আজ ধরা খেয়েছে মেশিন সহ। এত অত্যাধুনিক রাইফেল দিয়ে ওরা কি করার চিন্তা করছে?”

এছাড়াও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবিতে পোস্ট করা হয় (১, ২)।
সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রতিবেদনে একই ছবি ব্যবহার করতে দেখা যায়। প্রতিবেদনের শুরুতে লেখা হয়, “শরীয়তপুরে যৌথ অভিযানে তিনটি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪০ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, মাদক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।” আরও একাধিক সংবাদমাধ্যমে ছবিতে থাকা নারীর পরিচয় শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও মঞ্জুরুল আলম মন্টু তালুকদারের স্ত্রী বলে জানানো হয় (১, ২, ৩)।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলেও একই বিষয়ে দুইটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। দুই প্রতিবেদনেই গ্রেপ্তার হওয়া নারী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, ছবিতে গ্রেপ্তার হওয়া নারী ছাত্রী সংস্থা বা মহিলা জামায়াতের নেত্রী নন, বরং ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী।