
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতি এবং অর্থপাচার করে যারা বিদেশে পালিয়ে গেছে তারাও তারেক জিয়ার মতো রাজকীয়ভাবে দেশে ফিরে আসবে। ফেসবুকে ছড়ানো একাত্তর টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে এমনই এক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড সংবাদমাধ্যমটি প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকে একটি পেজ থেকে গত ২৪ ডিসেম্বর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ছবি সম্বলিত ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ে।

একাত্তর টিভির আদলে সৃষ্ট সেই ফটোকার্ডের ভেতরে অর্থ উপদেষ্টার ছবি। কার্ডে তার মন্তব্য দাবি করে লেখা, “তারেক জিয়ার মতো অতীতে যারা দুর্নীতি করে মানিলন্ডারিং করে বিদেশ পালিয়ে গিয়েছিল এখন তারা রাজকীয় ভাবে ফিরে আসতেছে। এখন যারা দুর্নীতি করে বিদেশ পালিয়ে আছে ভবিষ্যতে তারাও রাজকীয় ভাবে ফেরত আসবে এটাই বাংলাদেশ” (লেখা অপরিবর্তিত)। ছবির নিচে একাত্তর টিভির লোগো। বামপাশে তারিখ হিসেবে, “২৩ ডিসেম্বর ২০২৫” উল্লেখ করা। কার্ডের নিচে একাত্তর টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক পেজ, এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটিতে ১০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফটোকার্ডটি ২ হাজার ৮০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ১ হাজারের বেশি মন্তব্য করতে দেখা গেছে । একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই কথাটা বলার জন্য সার আপনাকে ধন্যবাদ” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “এটাই জঘন্য বাস্তবতা এদেশের জন্য।”
ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (১, ২) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে একাত্তর টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ২৩ ডিসেম্বরের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের বক্তব্যযুক্ত কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

যাচাই করতে গিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্য দেওয়া অন্য একটি ফটোকার্ড খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা, “দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য জটিল করছে পরিস্থিতি”। ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ভেতরের বক্তব্যের লেখার ফন্ট ও মূল ফটোকার্ডের ফন্ট পুরোপুরি ভিন্ন।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সংবাদমাধ্যমটির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। একাত্তর টিভির অনলাইন সম্পাদক ও হেড অব আউটপুট আরিফ রহমান শিবলী ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করেনি। তিনি জানান, প্রচার হওয়া কার্ডে ব্যবহৃত ফন্টটি একাত্তর টিভি তাদের কার্ডে ব্যবহার করে না।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের এমন কোনো বক্তব্যও গণমাধ্যমে খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব।
অর্থাৎ, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থপাচার করেও রাজকীয়ভাবে ফিরে আসা যায় এমন দাবিতে একাত্তর টিভির নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া।