
ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন পুলিশ ভয়ে আজান দিতে শুরু করেছে— এমন দাবিতে একটি ছবি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল ঘটনা কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগারির এবং প্রায় ৫ বছর পুরোনো।
ফেসবুকের এক পাবলিক গ্রুপে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিতে মাইক্রোফোনের সামনে পুলিশের পোশাক পরিহিত একজনকে আজান দেওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিতে লাল বৃত্তাকার ও তীর চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়েছে, “ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন পুলিশ ভয়ে আজান দিতে শুরু করেছে”।

এমন খবরে পোস্টের মন্তব্যে শত শত প্রোফাইল থেকে সন্তুষ্টি জানাতে দেখা যায়। পোস্টটি এ পর্যন্ত এক হাজার নয় শতবারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।
কিফ্রেম সার্চে তুরস্ক, কাতার ও লেবাননভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যমে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ছবির পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়। উভয় ছবিতেই ব্যক্তির চেহারা, পোশাক, ভঙ্গি ছাড়াও পেছনের ভবন ও সামনের মাইক্রোফোন পুরোপুরি মিলে যায়।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল আরব ও লেবাননভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাদিদ এর সূত্রে জানা যায়, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) প্রথম কোনো মুসলিম সদস্য হিসেবে কর্পোরাল নাদের খলিল মাগরিবের আজান দিয়েছেন। ২০২১ সালের পবিত্র রমজান মাসের চতুর্থ দিনে (১৬ এপ্রিল) কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগারিতে অবস্থিত আকরাম জুমা মসজিদে তিনি আজান দেন।

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের আলবার্টা শাখা আরসিএমপি আলবার্টা তাদের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। এছাড়া তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ২৩ এপ্রিলের এক ভিডিও প্রতিবেদনে জানায়, পবিত্র রমজান মাসজুড়ে কিছু মসজিদকে সূর্যাস্তের সময় (মাগরিবের) আজান প্রচার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কানাডার অ্যাডমন্টন ও ক্যালগারি শহরে।

উল্লেখ্য, সাধারণত শহরের শব্দদূষণ সংক্রান্ত উপবিধির অধীনে কানাডায় আজান প্রচার নিষিদ্ধ। তবে ২০২১-এ দ্বিতীয়বারের মতো কানাডার এডমন্টন ও ক্যালগারির কিছু মসজিদে রমজান মাস উপলক্ষ্যে আজানের অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
অর্থাৎ, ইরানের হামলার ভয়ে মার্কিন পুলিশের আজানের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি একজন কানাডিয়ান মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তার। এটি কানাডায় প্রায় পাঁচ বছর আগে রমজান মাসে মাগরিবের আজানের সময়কার ছবি। এর সঙ্গে ইরানের হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।