
বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ আওয়ামী লীগ, এমন দাবির একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এর করা জনমত জরিপের ফলাফল তুলে ধরার। গত ৫ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা ইএএসডির জরিপে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৫ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডে লেখা, “৬০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ আওয়ামী লীগ। বিএনপি ২২% শতাংশ, জামাত এনসিপি জোট ১৫% শতাংশ।” পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ভোটারের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আওয়ামী লীগ।” কমেন্টে দেখা যায় অনেকেই জরিপটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “রাইট”, আরেকজন লিখেছেন, “১০০% রাইট জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক (১, ২, ৩, ৪) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। গত ৫ জানুয়ারি প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “বিএনপিকে ভোট দিতে চান ৭০ শতাংশ মানুষ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) একটি জনমত জরিপ চালায়। রাজধানীর ফার্মগেটে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে সশরীর ২০ হাজার ৪৯৫ জনের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জরিপটি করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে এক জরিপ প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত ১৯ শতাংশ।”

বাংলা ট্রিবিউন এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “জরিপ অনুযায়ী, ‘আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন’ —এমন প্রশ্নের উত্তরে ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) এবং ৫ শতাংশ মানুষ অন্যান্য দলকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।”
প্রতিটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি ও ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ছবির মধ্যে মিল রয়েছে।
এছাড়া এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এর ফেসবুক পেজে গত ৪ জানুয়ারি জরিপটি নিয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টে তারা জনমত জরিপের ফলাফল তুলে ধরবে ৫ তারিখে এমন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। অধিকতর যাচাইয়ে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করে বলে, জরিপটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে করা এবং প্রেস রিলিজে তাদের জানানো ফলাফলই সংবাদমাধ্যমগুলো তুলে ধরছে।

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি সাম্প্রতিক একটি জরিপের যা ভুয়া দাবিতে প্রচার হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ছায়া ভোটের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে আ. লীগের পক্ষে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, “রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ছায়া ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ভোটারদের ৬০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। আর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে ভোট দিয়েছে ২২ শতাংশ ভোটার। এই ভোটে ১০ শতাংশ মানুষ কাকে ভোট দেবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। ছায়া ভোটে জাতীয় পার্টির পক্ষে ভোট পড়েছে ৪ শতাংশ। আর ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তাঁরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট দিতে চান।”