
কাঁধে ব্যান্ডেজ পরা এক ব্যক্তি বিছানায় বসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। তার আশপাশে একাধিক বালিশ। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি এমন এক ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিএনপির সেক্রেটারির উপর হামলা করেছে জামায়াতের কর্মীরা।
তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি ভুয়া। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তি সেই উপজেলার জামায়াতের সেক্রেটারি।
ফেসবুকে ‘কাঁঠের কেল্লা’ নামের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “রাজারহাট উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট আলীর আহমেদ উপর জামাতের কর্মীদের অতর্কিত হামলা। জামাতের উচিত এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা। তা না হলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা হবে।” ফেসবুকের একাধিক গ্রুপে (১, ২, ৩, ৪) পোস্টটি শেয়ার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পোস্টের ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি করা একটি পোস্ট খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “রাজারহাট উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট আহমদ আলীর উপর বিএনপি কর্মীদের অতর্কিত হামলা। বিএনপির উচিত দলীয় সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করা।” পোস্টে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে প্রচারিত ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। স্টার নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আহম্মদ আলীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। ১৩ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেতনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, আহত ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনের পর শ্বশুর বাড়িতে যান। ভোট দেওয়া নিয়ে তার চাচা শ্বশুরের সাথে একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে রোকনের তর্কাতর্কি একসময় মারামারিতে রূপ নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে রোকন বাড়ি থেকে ধান কাটার কাঁচি নিয়ে এসে পেছন থেকে আহম্মদ আলীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। প্রতিবেশীদের দাবি, রোকন চেতনা এলাকার যুবদলের ওয়ার্ড কর্মী।
অর্থাৎ, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে বিএনপির নেতা বলে প্রচার করা দাবিটি সত্য নয়। মূলত ওই ব্যক্তি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।