
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লক্ষ্মীপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বিএনপির সদস্যরা হত্যা করেছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। মূল ভিডিওটি পুরোনো এবং এটি লক্ষ্মীপুরের নয় বরং মানিকগঞ্জের একটি ভিন্ন ঘটনার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া মৃত ব্যক্তিরা শাহিন আহমেদ নামের এক প্রবাসীর পরিবারের সদস্য। আর কোনো প্রতিবেদনেই এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১১ এপ্রিল ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “লক্ষীপুর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ হোসেনের কাছে স্থানীয় বি*এন*পির স*ন্ত্রা*সীরা পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁ*দা দাবি করে। চাঁ*দা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিএনপির স*ন্ত্রা*সীরা আলতাফ হোসেনের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নি*র্ম*ম ভাবে হ*ত্যা করে। এই অ*মানবিক হ*ত্যা*কাণ্ড ভুলে যেওনা বাংলাদেশ।স্বাক্ষী থেকো।” ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন শিশুর মরদেহ মেঝেতে উপুর হয়ে, এবং বিছানায় একজন নারীর মরদেহ পড়ে আছে। এছাড়া কক্ষটিতে আরো তিনজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৩১ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এছাড়া, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (১, ২) থেকেও দাবিটি প্রচার করা হয়।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে বর্তমানে ছড়ানো ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। প্রথম আলোর ভিডিওটির শিরোনামে লেখা, “মানিকগঞ্জে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মা।” ২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটির ১৯ থেকে ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। বিবরণে বলা হয়, “মানিকগঞ্জ পৌরসভায় আবাসিক একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মা এবং দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে। মানিকগঞ্জে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মা।”
অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, একাধিক (১, ২, ৩, ৪) সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি নিয়ে সেই সময় অনলাইন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কবি মহিদুল সড়কের একটি দোতলা বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।” প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে আরও জানানো হয়, “লাশের পাশে বিষের ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইট) পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা, শিখা আক্তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার আসল কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিত নয়।” এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। তবে কোনো প্রতিবেদনেই এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমনটি উল্লেখ করা হয়নি।

আবার, ছড়িয়ে পড়া দাবিতে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় হিসেবে আওয়ামী নেতা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তান বলা হলেও, প্রতিবেদনে মৃতদের পরিচয় উল্লেখ করে বলা হয়, তারা হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহীন আহমেদের স্ত্রী শেখা আক্তার (২৯), তাঁর ছেলে আরাফাত ইসলাম (৯) ও মেয়ে সাইফা আক্তার (২)।
অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভুয়া, মানিকগঞ্জের পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য এটি।