
ধ্বংসস্তূপ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ উদ্ধারের দাবিতে সম্প্রতি একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দাবি করে প্রচারিত ছবিগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আজ ১ মার্চ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপে খামেনির দেহ একটি পিলারের নিচে চাপা পড়ে আছে। দেহের পাশেই তার মাথার পাগড়ি ও চোখের চশমাটি পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে তার লাশ বের করার চেষ্টা করছে। ক্যাপশনে লেখা, “নিথর দেহ…. আয়াতুল্লাহ আলী-খামেনির লাশ উদ্ধার… 🥲”।

আরেকটি প্রোফাইল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছবিটি প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়,“ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি’র মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকেও খামেনির একই ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন,“অবশেষে মুসলিম কিংবদন্তীর চির বিদায়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ্ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন’ আমীন।” ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ ও গ্রুপ থেকেও একই দাবিতে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) ছবিটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ছবিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়। ছবিতে খামেনির দেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা থাকলেও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় না। এমনি তার সামনে পড়ে থাকা চশমাটিও পুরোপুরি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল “সিন্থ-আইডি” (SynthID) ফিচার ব্যবহার করে জানা যায়, দাবির ছবির পুরো অথবা আংশিক অংশ গুগলের এআই টুলের সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। অন্যদিকে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআই অর নট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।
অর্থাৎ, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে নির্মিত।
প্রসঙ্গত, আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি।