
“ফিলিস্তিনিদের মাথার খুলি এবং বিকৃত মৃতদেহ ভর্তি ৬৬টি বাক্স গাজায় পাঠিয়েছে ইসরায়েল”- এমন দাবিতে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি। একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, ছবিটি এআই হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ফেসবুকে “প্রতিদিন সকাল” নামের একটি পেজ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি “ফিলিস্তিনিদের মাথার খুলি এবং বিকৃত মৃতদেহ ভর্তি ৬৬টি বাক্স গাজায় পাঠিয়েছে ইসরায়েল”- ক্যাপশনে একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিতে দেখা যায়, বেশ কিছু বাক্সে মানুষের মাথার খুলি এবং শরীরের অন্যান্য অংশ রয়েছে। বাক্সগুলো ঘিরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, পোস্টে অন্তত ২৭ হাজার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ছবিটি প্রায় ২ হাজার ৬০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) পেজ ও গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ছবিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উপস্থিত অধিকাংশ মানুষের চেহারা বিকৃত এবং কারও চেহারাই স্পষ্ট নয়। কিছু মানুষের শারীরিক গঠনেও অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। এছাড়া গণমাধ্যমে এমন কোনো ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআই অর নট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।

অর্থাৎ, ফিলিস্তিনিদের বিকৃত মরদেহ ভর্তি বাক্সের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালায় ইসরায়েল, যা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে। চলমান এই সংঘাতের যুদ্ধবিরতি গত বছরের ১০ অক্টোবরে কার্যকর হয়। এর মাঝেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বাহিনী রেড ক্রসের মাধ্যমে ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একাধিক (১, ২, ৩) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।