
উপদেষ্টার বাসায় বস্তা বস্তা টাকা পাওয়া গেছে দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছড়ানো দৃশ্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের বাসায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময়ের। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে যৌথবাহিনী এ অভিযান চালায়।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “উপদেষ্টাদের বাসায় মিলল বস্তা বস্তা টাকা।” ৪০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে যৌথবাহিনীকে একটি বাসা থেকে টাকা, মোবাইল, ঘড়ি উদ্ধার করতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৫০৭ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে ২৮ হাজারের বেশি। ফেসবুকের একাধিক (১, ২) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সংবাদমাধ্যম এসএ-টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “সেনা অভিযানে সচিবের বাসা থেকে মিললো কোটি টাকা।”
ভিডিওর ৪৫ সেকেন্ড থেকে ৫৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম ১০ সেকেন্ডের মিল রয়েছে। অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, একই দিনে প্রকাশিত যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে। বিশেষ করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি, জব্দকৃত মোবাইল ও ঘড়ি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি এবং অন্যান্য বস্তুর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

এ ঘটনা নিয়ে অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক (১, ২, ৩, ৪) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোর বিভিন্ন অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “রাজধানীর উত্তরায় সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন খানের বাসা থেকে ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা, ১১টি আইফোন ও ব্র্যান্ডের মূল্যবান ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থসহ এসব মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন খান ও তাঁর ছেলে কে এম আসিফ হাসানকে। আমজাদ হোসেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় ২০২০ সালে অবসরে যান।”
অর্থাৎ, সাবেক অতিরিক্ত সচিবের বাসায় অভিযানের ভিডিও ছড়াচ্ছে উপদেষ্টার বাসায় টাকা পাওয়ার দাবিতে।