ডিসমিসল্যাব

অফিসিয়াল ডেস্ক
ভুল ও অপতথ্যের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের পলিসি ব্রিফ
This article is more than 10 months old

ভুল ও অপতথ্যের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের পলিসি ব্রিফ

ডিসমিসল্যাব
অফিসিয়াল ডেস্ক

২০২২ সালে ১৪২টি দেশের নিয়মিত ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর ওপর চালানো এক জরিপ থেকে দেখা যায়: ৫৮.৫ শতাংশ ব্যবহারকারীই অনলাইনে ভুল তথ্যের সামনে পড়ার বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ এমন ভুল ও অপতথ্যের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরাও। ২০২২ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ শান্তিরক্ষী বলেছেন: এগুলো তাদের কাজে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এসব তথ্য উঠে এসেছে গত ৫ জুন প্রকাশিত “ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম” শীর্ষক জাতিসংঘের পলিসি ব্রিফ-এ।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে কীভাবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভাইরাস, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং টীকা সংক্রান্ত ভুল ও অপতথ্য জনসাধারণের মনে দ্বিধার সৃষ্টি করেছে এবং জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অনলাইন বিদ্বেষ সহিংসতাকে আরও উস্কে দেয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে, এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে। স্বাস্থ্য, জলবায়ু, গণতন্ত্র, জেন্ডার সমতা, নিরাপত্তা, এমনকি মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলোও অনলাইন অপতথ্যের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

উদ্ভুত এই পরিস্থিতির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলের দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এখানে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত অ্যাটেনশন ইকোনমি বা মনোযোগের অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞাপন থেকে বেশি আয়ের উদ্দেশ্যে তারা সেসব কন্টেন্টই বেশি প্রাধান্য দেয়, যেগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি জন-সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে। ফলে বেশি সম্পৃক্ততা তৈরি করে– এমন কন্টেন্ট যদি ভুল ও বিদ্বেষপূর্ণও হয়, তাহলেও সেটি অ্যালগরিদমে বেশি প্রাধান্য পাবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যকার আন্তঃসরকারি সহযোগিতার ঘাটতি সমাধানে “আওয়ার কমন এজেন্ডা” প্রস্তাবনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘের এই পলিসি ব্রিফ। ডিজিটাল পরিসরকে আরও অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যে এখানে কিছু আচরণবিধির সম্ভাব্য মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো সদস্য রাষ্ট্র, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য অংশীজনদের জন্য গাইড হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সামিট অব দ্য ফিউচারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তথ্য নিরাপত্তা জোরদারে একটি সর্বজনীন নীতিমালা প্রণয়ন করাই হবে এই আচরণবিধির উদ্দেশ্য।

নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য একটি আচরণবিধি তৈরির কিছু মূল নীতিমালাও প্রস্তাব করা হয়েছে এই পলিসি ব্রিফ-এ। যার মধ্যে আছে নির্ভুল তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা, স্বচ্ছতা বাড়ানো, ব্যবহারকারীর ক্ষমতায়ন, অপতথ্য নিরুৎসাহিত করতে শক্তিশালী পদক্ষেপ, গবেষণা ও ডেটায় প্রবেশাধিকার জোরদার করা, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সমর্থন বাড়ানো, বিশ্বাস ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

পুরো প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

আরো কিছু লেখা