
গত ১১ ডিসেম্বর ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। এরপরই শুরু হয়েছে প্রচারণার মৌসুম। শুধু জনসভা, বিবৃতি এবং মনোনয়নে আটকে থাকেনি প্রচারণা, ভুল তথ্যের ক্রমবর্ধমান স্রোতও অংশ হয়েছে এর। ভোটারদের পক্ষে আনার চেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে কে এগিয়ে আছে আর কে পিছিয়ে আছে- সেই গল্প তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ।
গত এক মাসে দেখতে পাওয়া মিথ্যা দাবিগুলোকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। কিছু দাবি রাজনৈতিক দলগুলোকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, তাদের জনপ্রিয়তা, বৈধতা বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা প্রচার করেছে। অন্য দাবিগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বানোয়াট উক্তি, বিকৃত ভিডিও বা সাজানো কেলেঙ্কারির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এর বেশিরভাগই ছিল তিনটি দল কেন্দ্রিক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও এর বাইরে ছিল না। তবে তাদের ব্যাপারে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রায় সবগুলোতেই দলটির প্রতি অব্যাহত জনসমর্থন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের নয়টি ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা নির্বাচন সংক্রান্ত ৬৩টি মিথ্যা দাবি শনাক্ত ও খণ্ডন করেছে। এর আগের সপ্তাহগুলোতে- ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। অর্থাৎ মিথ্যা দাবি প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধির মতো দাবির ধরনে মিলও উল্লেখযোগ্য: সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মিথ্যা বিবৃতি এবং উক্তি। বিভিন্ন দলের নেতা, রাজনৈতিক কর্মী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি তো ছিলই; এআই-নির্মিত “সাধারণ নাগরিকদের” সংখ্যাও ক্রমাগত বেড়েছে।
ভুল তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রচারণার কৌশলগুলোও অনুকরণ করা হয়েছে। প্রার্থীর মনোনয়ন এবং প্রাথমিক প্রচারণাকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। আদৌ নির্বাচন হবে কি না, এ প্রশ্ন তুলেও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
ভুল তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে মহিমান্বিত করার চেষ্টার অনেকটাই ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক। বেশ কিছু মিথ্যা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া বা আসন্ন রাজনৈতিক সাফল্যের পথে থাকা দল হিসেবে দেখানো হয়েছে।
একটি ক্ষেত্রে, বাংলাভিশন টেলিভিশন চ্যানেলের অনুকরণে তৈরি একটি বানোয়াট ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, গণভোট নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন পেয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এনটিভি-র নামে ছড়ানো আরেকটি বানোয়াট ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ১৩টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী গঠন করবে আগামী সরকার।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করেও একই ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। একটিতে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে উদ্ধৃত করে মিথ্যা দাবি করা হয়, বিএনপি নিষ্ক্রিয় থাকায় জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে। অন্যটিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর নামে মিথ্যা প্রচার করে বলা হয়, ইসকনের সব ভোট জামায়াতে ইসলামী পাবে। ফ্যাক্ট-চেকিং রিপোর্টে উভয় দাবিই বানোয়াট প্রমাণিত হয়েছে।

ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে একটি নির্বাচনী জরিপ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, বিএনপি ৪০টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক শক্তি ২০টি আসন পাবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি থেকেই কুরআনের শাসন শুরু হবে। ফ্যাক্টচেকাররা পুলিশ কর্তৃক এমন কোনো জরিপ পরিচালনার প্রমাণ পাননি এবং ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে জানান।
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের প্রচারে ভুল তথ্য ছড়ানো থামেনি। বেশ কিছু দাবিতে বানোয়াট জরিপ বা রিপোর্টের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে দলটি এখনো বাংলাদেশে জনপ্রিয়। একটি ভিডিওতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার জরিপের বরাত দিয়ে মিথ্যা দাবি করা হয়, ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। ফ্যাক্টচেকাররা দেখেছেন যে ভিডিওটি এআই-নির্মিত এবং সংবাদমাধ্যমটির প্রকৃত জরিপের সাথে এর কোনো মিল নেই।
অন্য একটি ক্ষেত্রে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে এখনো প্রায় অর্ধেক ভোটার সমর্থন করে। ফ্যাক্ট-চেকিং রিপোর্টে দেখা গেছে এই দাবিটি রয়টার্স করেনি।
আওয়ামী লীগের প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন অব্যাহত থাকার দাবিও ছড়ানো হয়েছে ভুল তথ্যে। ফেসবুকে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ৫৭,০০০ হিন্দু ভোটার বলেছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না এলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। ফ্যাক্ট-চেকিং রিপোর্টে এই দাবিটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অন্য এক ভিডিওতে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ঝিনাইদহের এক লাখ হিন্দু ভোটার ভোট বর্জন করবে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি এআই ব্যবহার করে বানানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রেহাই পাননি। একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এই ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষে একটি কার্ডে দলটির নেত্রী শামা ওবায়েদকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফ্যাক্ট-চেকাররা দেখেছেন তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি; এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে শুরু হয়ে পরে রাজনৈতিক দাবি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে হেয় করতেও ভুল তথ্যের ব্যবহার হয়েছে এবং প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু ছিল বিএনপি। বহুল আলোচিত একটি এআই-নির্মিত ভিডিওতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দাবি করতে দেখা যায়, তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নামেও বেশ কিছু মিথ্যা বিবৃতি ছড়ানো হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয় তিনি বলেছেন, বিএনপির জনসমর্থন নেই এবং তারা চুরি ও ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। অন্য একটি দাবিতে বলা হয় লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তারেক রহমানের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ড. ইউনূস ভোটকেন্দ্র দখল এবং ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তা করবেন। ফ্যাক্ট-চেকাররা কোনো যাচাইকৃত সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতায় এমন দাবির সত্যতা পাননি।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত দাবির লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বিএনপির অন্য নেতাদের। যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফটোকার্ডে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিএনপির সাথে জোট করে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের মতো দেখতে আরেকটি ফটোকার্ডে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে মিথ্যা দাবিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ অংশ না নিলে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করবে।

জামায়াতও অপপ্রচারের লক্ষ্য হয়েছে। আমার দেশের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ডে জামায়াত নেতা ড. শফিকুর ইসলাম মাসুদের নামে দাবি করা হয়, যারা “দাঁড়িপাল্লা” মার্কায় ভোট দেবে না তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।
জামায়াত আমীর ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্যও বিকৃত করা হয়েছে। একটি এডিটেড ভিডিওতে বিভিন্ন ক্লিপ জুড়ে দিয়ে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন তিনি বলছেন, “মানুষ ভোট দিক বা না দিক, আমাদের ক্ষমতায় আসতে হবে”। ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা পোস্টে মিথ্যা দাবি করা হয় তিনি বাংলাদেশে গণহত্যার ডাক দিয়েছেন। আবার কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, শফিকুর বলেছেন বিরোধী দল থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দিলে জামায়াত নির্বাচনে যাবে না এবং প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন সশস্ত্র শিবির কর্মী মোতায়েন করা হবে।
ফেসবুকে একটি সম্পাদিত ছবি ছড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম পাকিস্তানি পতাকা হাতে জামায়াতের প্রচারণা করছেন। ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমানের একটি ছবিতেও এআই ব্যবহার করে বাংলাদেশি পতাকার জায়গায় পাকিস্তানি পতাকা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) অপপ্রচারের লক্ষ্য হয়েছে। লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাকের নামে একটি মিথ্যা উক্তি ছড়ানো হয়, দলটি বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে নির্বাচনের বিরোধিতা করছে। ইশরাক এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মনোনয়ন সংক্রান্ত খবরও ভুল তথ্য ছড়ানোর নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বানোয়াট নথি এবং ভুয়া ঘোষণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যা অনেক সময় ভোটার ও সংবাদমাধ্যমকেও বিভ্রান্ত করছে।
বিএনপির প্যাডের মতো দেখতে একটি নথি সিলেটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। এতে রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর ছিল, তবে নথিটি পরে বানোয়াট হিসেবে প্রমাণিত হয়। একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয় গায়িকা কনক চাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমও এই ভুল তথ্য প্রচার করেছিল।

খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী জামায়াতের মনোনয়ন ঘোষণার পর একটি পুরনো ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, সেখানে জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি ছিল রাজশাহী জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের পুরনো সংঘর্ষের।
এনসিপিও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু ছিল। একটি পোস্টে দাবি করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাফসিন মেহনাজ আজিরীন ঢাকা-১৯ আসন থেকে এনসিপি-র মনোনয়ন পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মনজুর কাদেরকে লক্ষ্য করে মিথ্যা দাবি ছড়ায়, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধানমন্ডি ক্লাব দখল করেছিলেন এবং ক্ষমতাসীন পরিবারের সন্তুষ্টির জন্য এর নাম পরিবর্তন করে “শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব” রেখেছিলেন।
মনোনয়নের বাইরে নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য ভুল তথ্যের মধ্যে কোনো নির্বাচন হবে না এবং সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করবে- এমন দাবিও ছিল। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারেক রহমান বা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন, এমন সব মিথ্যা দাবিও ছড়ানো হয়েছিল।
সব দাবিই পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি এহেড বাংলাদেশ (AHEAD Bangladesh) প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ দায়ভার ‘ডিজিটালি রাইট’ এর এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতের প্রতিফলন নয়।