মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য

ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

উত্তর কোরিয়া চলমান যুদ্ধে ইরানকে ৫০০টি মিসাইল দিয়েছে। এমন দাবিতে একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনে বলেছে, পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিয়ে হোয়াসং-১৮ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়েছে এমন আলোচনা। তবে ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন দাবিতে ছড়ানো তথ্যগুলো ভিত্তিহীন। ছড়ানো তথ্যের সূত্র হিসেবে অধ্যাপক সাইয়েদ মুহাম্মদ মারান্দি ও জিয়াং শুয়েচিনের যে ভিডিওগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদিত বা বানানো।

অধ্যাপক মারান্দির বরাতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে জানানো হয়, পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিয়ে ইরানে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল ঢুকেছে। চীন ও মধ্য এশিয়ার স্থলপথ হয়ে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস বা রাডারের বদলে নক্ষত্রের সাহায্যে পরিচালিত হয়ে থাকে।

ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য
ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০টি মিসাইল পৌঁছেছে দাবিতে ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

পোস্টে অধ্যাপক মারান্দির বরাতে আরও লেখা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এত বড় অস্ত্র হস্তান্তর আর ঘটেনি। এই মিসাইলগুলি সকর ই্ওরোপিয় রাজধানীসহ খোদ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করতে সক্ষম। এগুলি চলে সলিড ফুয়েলে, ফলে যেকোনো সময় উত্‌ক্ষেপনের জন্য তৈরি। এই মিসাইল আকাশে ওড়ার মাত্র এক সেকেন্ড আগে হিট সিগনেচার ছাড়ে বলে শত্রুরা বুঝতে পারার আগেই এগুলি শত্রুর নিশানায় রওনা হয়ে গেছে। অন্যদিকে হাজরা-মেরিকারগুলি চলে তরল জ্বালানিতে, যা রেডি করতে সময় লেগে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ হলো, এই হুয়াসং-১৮ মিসাইলগুলি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ইরান স্বীকার না করলেও ইরানের হাতে আসা এই ৫০০ আইসিবিএম-এর মধ্যে যে পারমানবিক ওয়ারহেড লাগানো নাই, তা বলা যায় না।”

এছাড়াও পোস্টে লেখা হয়, “মিসাইলগুলি ইতিমধ্যে সারা ইরানজুড়ে মোতায়েন করা হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন প্রফেসর মারান্দি। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলি দ্রুতগতিতে ইরানের সাথে আপসে আসার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছে। বুঝতেই পারেন, ইরান কতটা প্রস্তুত। ইরানের হাতে তুরুপের তাস যে আরো আছে, তা হয়তো স্থলযুদ্ধ শুরু হলে দেখা যাবে, আদৌ সেই সাহস যদি এপস্টেইনন ক্লাস করে। নিশ্চিত পরমাণু হামলার মুখে ইরানের হাতে রয়েছে পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা। গত রাতে পুরনো মধ্যপ্রাচ্যের মৃত্যু হয়েছে। জানাজা হবে যুদ্ধ শেষে। সিন্নি পাকাবে ইয়েমেন!”

গত ৪ এপ্রিল প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এমন দাবি করে একটি পোস্ট করেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।

তবে পোস্ট সরানোর পরেও ফেসবুকে একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই লেখাটি ছড়াতে দেখা যায় (, , )। বেশ কয়েকটি পোস্টে ফারুক ওয়াসিফকে (, , , ) সূত্র দেখানো হয়।

  • ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য
  • ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য

যাচাই ছাড়াই প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে

সামাজিক মাধ্যমে পোস্টগুলো ছড়ানোর পাশাপাশি একই ধরনের তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম। বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও পোস্টগুলোতে ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়েদ মুহাম্মদ মারান্দিকে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদমাধ্যম দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত গত ৪ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়, “ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘হোয়াসং-১৮’!” প্রতিবেদনে ফারুক ওয়াসিফের পোস্টে থাকা একই তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয়। সূত্র হিসেবে দেখানো হয় অধ্যাপক মারান্দিকে।

আরেকটি সংবাদমাধ্যম নাগরিক টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলেও একই তথ্য জানিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। টাইটেলে লেখা হয়েছে, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘হোয়াসং-১৮’ ব্যালিস্টিক মি/সা/ইলের অধিকারী এখন ইরান?” প্রতিবেদনে “বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে” বলে জানানো হয়।

ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য
ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০টি মিসাইল পৌঁছানোর দাবিতে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইনকিলাব একই ধরনের তথ্য জানিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। শিরোনামে লিখেছে, “পশ্চিমা গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো; উত্তর কোরিয়ার ‘হোয়াসং-১৮’ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল ইরানের হাতে, পাল্টে যাচ্ছে সব হিসাব!” প্রতিবেদনের শেষে লেখা আছে, “উপরে প্রদত্ত তথ্যগুলো আমাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ভিডিও হতে তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে।”

এছাড়া আরও একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই তথ্য জানিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে (, , )। 

যাচাইয়ে সামনে এল কিছু এআই ভিডিও

দাবিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে ৩৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি প্রাসঙ্গিক ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে গ্লোবাল ইনসাইটস লাইভপ্রফেসর মারান্দি অ্যানালিটিক্যালস নামের দুইটি চ্যানেল থেকে। ভিডিওতে আলোচিত ফেসবুকে পোস্টে থাকা একই তথ্যগুলো বলতে শোনা যায় অধ্যাপক মারান্দিকে।

তবে ভিডিওটি বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত অংশে ইউটিউব জানায়, “শব্দ বা দৃশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পাদিত বা ডিজিটালভাবে তৈরি।” ভিডিওর ওপরে বাম কোণেও তা উল্লেখ রয়েছে।

ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, অধ্যাপক মারান্দির বরাতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট
ইউটিউবে পাওয়া অধ্যাপক মারান্দির ভিডিওর স্ক্রিনশট। 

যখন কোনো ভিডিওতে উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো দৃশ্য বা শব্দ পরিবর্তন করা হয় কিংবা এআই- এর সাহায্যে তৈরি করা হয়, তখন ইউটিউব এই ধরনের সতর্কবার্তা যুক্ত করে। ইউটিউবের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্মাতা যদি ইউটিউবের নিজস্ব জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করেন, তাহলে ইউটিউব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সতর্কবার্তা যুক্ত করে। এছাড়াও, ভিডিওতে যদি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ডেটা বা মেটাডেটা থাকে, যা থেকে প্রমাণ হয় যে পুরো ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়েছে, তাহলেও ইউটিউব এই সতর্কবার্তা যুক্ত করে। ইউটিউব নিজ থেকে এই লেবেল যুক্ত করলে, নির্মাতার সেটি মুছে ফেলার কোনো সুযোগ থাকে না।

প্রফেসর মারান্দি অ্যানালিটিক্যালস নামের ইউটিউব চ্যানেলের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, “উইল’স অ্যানালিটিক্যাল ব্রিফ-এ আপনাকে স্বাগতম, এটি অভিজাত ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য ভক্তদের দ্বারা নির্মিত একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।” অর্থাৎ, চ্যানেলটি অধ্যাপক সাইয়েদ মুহাম্মদ মারান্দির নয়। 

অধিকতর যাচাইয়ে, ভিডিওটির প্রথম ৩০ সেকেন্ড অংশ এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। ফলাফলে টুলটি জানায়, “ভিডিওতে থাকা স্পিচ বা বক্তব্যটি এআই জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।”

ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, অধ্যাপক মারান্দির বরাতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট
ইউটিউবে পাওয়া অধ্যাপক মারান্দির ভিডিও হাইভ মডারেশন টুলে পরীক্ষার ফলাফলের স্ক্রিনশট।  

এছাড়া, একাধিক কিওয়ার্ড সার্চে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক সাইয়েদ মুহাম্মদ মারান্দির নাম সার্চে খুঁজে পাওয়া ফেসবুক পেইজভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও এমন কোনো তথ্য বা ভিডিও উল্লেখ থাকতে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক পরিসরে জিয়াং শুয়েচিনের বরাতে আগেই ছড়িয়েছে এমন তথ্য

অধ্যাপক মারান্দির বক্তব্যের এআই ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড হয় গত ৩ এপ্রিল। তবে এর আগে ইউটিউবে জিয়াং শুয়েচিনের একটি ভিডিও দেখা যায় যেখানে তিনি একই তথ্য দিয়েছেন। জিয়াং শুয়েচিন একজন শিক্ষক ও বিশ্লেষক, যিনি তার “প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি” ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে “প্রফেসর জিয়াং” নামে বেশ জনপ্রিয়। প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে “ইউ এস কমান্ড ইনসাইড” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে জিয়াং শুয়েচিনের ৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। এটি আপলোড করা হয়েছে গত ২ এপ্রিল। টাইটেলে লেখা আছে, “উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ৫০০টি হোয়াসং-১৮ আইসিবিএম পেল ইরান, ইসরায়েলের সর্বনাশ আসন্ন, যুক্তরাষ্ট্র কাঁপছে।”

সামাজিক মাধ্যম এক্সেও (সাবেক টুইটার) একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া, বিভিন্ন এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল পৌঁছেছে দাবিতে একাধিক পোস্ট ছড়াতে দেখা যায় (, , )।

ভিডিওর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে চ্যানেলটি বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব। চ্যানেলটি তৈরি করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। তবে প্রথম ভিডিও দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের ২৫ মার্চের। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চ্যানেলটি থেকে মোট ১২টি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সবগুলো ভিডিওতেই জিয়াং শুয়েচিনকে কথা বলতে দেখা যায়।

প্রায় সবগুলো ভিডিওই ৪০ মিনিটের আশেপাশে। চ্যানেলটিতে থাকা ১২ টি ভিডিওতেই জিয়াং শুয়েচিন হুবহু একই পোশাকে ছিলেন। তার চশমা, চুলের অবস্থান, হেডফোনের তার, শার্টের ভাজ, পেছনের দৃশ্য সবকিছুই অস্বাভাবিকভাবে প্রতিটি ভিডিওতে হুবহু একরকম।

এছাড়া “প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি” চ্যানেলে জিয়াং শুয়েচিনের ভিডিওতে তার চোখের পলক ফেলার ধরন ও “ইউ এস কমান্ড ইনসাইড” চ্যানেলের ভিডিওতে চোখের পলক ফেলার ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আছে। “ইউ এস কমান্ড ইনসাইড” ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে তার চোখের পলক ফেলা ও নড়াচড়ার ধরন অনেকটা কৃত্রিম প্রতীয়মান হয়। কথা বলার ধরনও বেশ আলাদা। 

  • ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, জিয়াং শুয়েচিনের বরাতে আগেই ছড়িয়েছে এমন তথ্য
  • ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য
  • ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, জিয়াং শুয়েচিনের বরাতে আগেই ছড়িয়েছে এমন তথ্য

পরবর্তী যাচাইয়ে “ইউ এস কমান্ড ইনসাইড” চ্যানেলের একটি ভিডিও থেকে কয়েকটি ১৫ সেকেন্ডের ক্লিপ নিয়ে এআই শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশনে দিয়ে পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। ফলাফলে হাইভ মডারেশন জানিয়েছে, একটি ক্লিপের ভিডিও এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ ও স্পিচ এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ। আরেকটি ক্লিপের ক্ষেত্রে হাইভ মডারেশন জানিয়েছে ভিডিও এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৪ শতাংশ ও স্পিচ এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৬৪ শতাংশ।

ফ্যাক্ট চেক ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ মিসাইল, যেভাবে ছড়িয়েছে এমন ভিত্তিহীন তথ্য
“ইউ এস কমান্ড ইনসাইড” চ্যানেল থেকে পাওয়া ভিডিওর একাধিক ক্লিপ হাইভ মডারেশন টুলে পরীক্ষার ফলাফল।

এছাড়া প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে জিয়াং শুয়েচিন এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। তার ইউটিউব চ্যানেল “প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি” থেকেও এমন তথ্য জানিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ভিডিও আপলোড করতে দেখা যায়নি।

অর্থাৎ, ইরানের হাতে উত্তর কোরিয়ার ৫০০ টি হোয়াসং-১৮ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছেছে– সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে অধ্যাপক সাইয়েদ মুহাম্মদ মারান্দি বা জিয়াং শুয়েচিনের বরাতে ছড়ানো এমন তথ্য ভিত্তিহীন। 

উল্লেখ্য, তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচও দাবিটিকে ভিত্তিহীন জানিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

হোয়াসং-১৮ মিসাইল সম্বন্ধে যা জানা যায়

মার্কিন সংবাদমাধ্যম “সিএনএন” ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম “কেসিএনএ”-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াসং-১৮ মিসাইল হলো একটি নতুন ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম। এটি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি একটি কঠিন জ্বালানি বা সলিড-ফুয়েল চালিত মিসাইল। অন্যান্য তরল জ্বালানির মিসাইলের চেয়ে একে শনাক্ত করা বেশ কঠিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে মিসাইলটি ৪ হাজার ৪৯১ সেকেন্ড (প্রায় ৭৫ মিনিট) ধরে উড়েছে। এ সময় এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৪৮.৪ কিলোমিটার উচ্চতায় ওঠে। এরপর ১ হাজার ১.২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে গিয়ে পড়ে।

আরো কিছু লেখা