
বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টর (বিজেপি) সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, “যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চায় বিজেপি নেতা।” তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, এ বিজেপি নেতা বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

গত ২৫ মার্চ আমার দেশ কলকাতার বিশেষ প্রতিনিধির বরাতে “যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সাহায্য চান বিজেপি নেতা” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের ভেতরে লেখা হয়, “বাংলাদেশের যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ জন্য তিনি বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন।”
দৈনিক ইনকিলাব ২৬ মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখেছে, “ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন।”
দেশ রূপান্তর তাদের প্রতিবেদনে বিজেপি নেতার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, “তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশি হিন্দুরা বাংলাদেশ ভেঙে জমি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হন। বিশেষ করে যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার কথা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সহায়তাও চান বলে জানা গেছে।”
২৫ মার্চে বিডি টুডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়, “ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশের যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) কলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি দেন। আর এ জন্য তিনি বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন।”
পুরোপুরি একই দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একাধিক (১, ২, ৩, ৪) সংবাদমাধ্যম।
বিজেপি নেতার প্রকৃত বক্তব্য
গত ২৪ মার্চ ভারতের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একটি সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন, “যদি বাংলাদেশ থেকে আসো, তবে সাথে করে জমিও নিয়ে আসো। যাকে পাঠাচ্ছ পাঠাও, তার সঙ্গে যশোরের অর্ধেক আর খুলনা- যা ছিল পুরোনো হিসাব, ওই দুই জেলাকে হিন্দুস্তানে শামিল করে দাও।” মূলত তার এ বক্তব্যকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রচার করছে, তিনি যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন দাবিতে।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যটি পাওয়া যায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গত ২৪ মার্চে প্রকাশিত একটি লাইভ ভিডিওতে। ২৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটির ১০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড থেকে শমীক ভট্টাচার্যকে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওর ২১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, “যদি আসো, বাংলাদেশ থেকে আসো, তবে সাথে করে জমিও নিয়ে আসো। আমাদের বলা হয় যদি তোমাদের ক্ষমতা না থাকে, তোমাদের খাওয়ানোর হিম্মত না থাকে, যাকে পাঠাচ্ছ পাঠাও, তার সাথে সাথে যশোরের অর্ধেক আর খুলনা- যা ছিল পুরোনো হিসেব, ওই দুই জেলাকে হিন্দুস্তানে শামিল করে দাও। এমন চলতে পারে না।”

পুরো বক্তব্যে তাকে কোথাও বাংলাদেশি হিন্দুদের সাহায্য চাইতে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে দ্য ওয়াল গত ২৪ মার্চ “‘বাংলাদেশ থেকে আসলে জমি নিয়ে আসুন’, যশোর-খুলনাকে ভারতে সামিল করার ডাক শমীকের” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “খিদিরপুর, মহেশতলা এবং মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগও ফের তোলেন তিনি। বিতর্ক উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে নিজের জমি নিয়েই আসুক। না হলে যাঁরা পাঠাচ্ছেন, তাঁদেরই যশোর-খুলনা ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া উচিত।””
অর্থাৎ, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশের হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন দাবিটি সত্য নয়। তার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম।