নীতি চাকমা

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

স্টিভ সালগ্রা রেমা

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
ইউটিউব চ্যানেলের পুঁজি যখন ব্যারিস্টার সুমন ও মন্ত্রীরা

ইউটিউব চ্যানেলের পুঁজি যখন ব্যারিস্টার সুমন ও মন্ত্রীরা

নীতি চাকমা

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

স্টিভ সালগ্রা রেমা

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সমালোচনা করছেন, এমন বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তাঁর এই সমালোচনার তালিকায় আছেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের একাধিক মন্ত্রী। বাদ পড়েননি সাবেকরাও। তবে ডিসমিসল্যাব ভিডিওগুলো যাচাই করে দেখেছে, ব্যারিস্টার সুমন বর্তমান বা সাবেক মন্ত্রিপরিষদের কারোর বিরুদ্ধে সংসদে এরকম কোনও বক্তব্য রাখেননি। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে বিভিন্ন সময়ে ব্যারিস্টার সুমন যে সমালোচনাধর্মী বক্তব্য রেখেছেন, সেসব ভিডিও/অডিও ব্যবহার করে ভুয়া প্রতিবেদন বানাচ্ছে রেসপেক্ট আমেরিকান টিভি (Respect American TV) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার সুমন। 

মূলত রেসপেক্ট আমেরিকান টিভির নামের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গত কয়েকদিন ধরে ঢালাও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, ইউটিউব চ্যানেলটি ভেরিফায়েড; নাম ইংরেজিতে। বিবরণে অবস্থান দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভুয়া ভিডিও প্রতিবেদনগুলোর উপস্থাপক বানানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। চ্যানেলটির বিভ্রান্তিমূলক তথ্য অসংখ্য মানুষ বিশ্বাসও করছে, যা তাঁদের মন্তব্যে স্পষ্ট। বর্তমানে দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে নেই, এ কে আব্দুল মোমেনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। একইভাবে নেই শ ম রেজাউল করিমও। কিন্তু ভুয়া ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমান সংসদে তাঁদের তীব্র সমালোচনা করছেন ব্যারিস্টার সুমন, মন্ত্রীগণ জবাবও দিচ্ছেন।

একটি ভিডিওতে “ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি দুর্নীতি ফাঁস” শিরোনাম করে তাতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বিগত কোনো সংসদে রাখা দীপু মনির বক্তব্যের ফুটেজ। অডিও যাচাইয়ে দেখা যায়, ব্যারিস্টার সুমন সংসদে নয়, বরং নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দীপু মনির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেই অডিও সংসদে রাখা বক্তব্য হিসেবে দেখিয়েছে চ্যানেলটি।

ডিসমিসল্যাব এই চ্যানেলে ব্যারিস্টার সুমনের আরো কয়েকটি সাম্প্রতিক ভিডিও যাচাই করে দেখেছে সেগুলো বিকৃত এবং মিথ্যা। দেখা গেছে, অন্তত তিনটি ভিডিওকে জোড়া লাগিয়ে একেকটি ভুয়া ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

“ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি দুর্নীতি ফাঁস | ব্যারিস্টার সুমন” এই শিরোনামে প্রকাশ করা ভিডিওটি যাচাই করে দেখা যায়, এই সাংসদ দুই বছরেরও বেশি সময় আগে তখনকার শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলেছিলেন। ভিডিওতে সুমনকে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি বুঝতে পারতেছেন আপনার জায়গাটা যদি এত নড়বড়ে হয়ে যায়; আপনি এবং আপনার এই আত্মীয় স্বজনরা বুদ্ধি করে ৩৫৯ কোটি বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন।” এই কথাগুলো মূলত তিনি বলেছিলেন ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি “মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমাদের নয় আপনার আত্মীয় স্বজনদের শিক্ষা দিন!” এই ক্যাপশনে, তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্যারিস্টার সায়েদ সায়েদুল হক সুমন -এ প্রকাশিত ভিডিওতে। 

সুমনের বক্তব্যের পর দীপু মনির যে ভিডিওটি দেখানো হয় তার অডিও আনা হয়েছে দুইটি ভিডিও থেকে। শুরুর অংশটি ইউটিউবে পাওয়া গেছে যুমনা টিভির একটি লাইভ ভিডিওতে, শিরোনাম  “আমার পরিবারের এ সকল দুর্নীতির সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই: দীপু ম‌নি”। ২৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে। শেষের বক্তব্যটি দীপু মনি সংসদে রেখেছিলেন সাবেক এমপি রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে। 

চ্যানেলটির ভুয়া প্রতিবেদনে যুক্ত দীপু মনির ভিডিওটি নেওয়া হয়েছে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশনের ইউটিউব ভিডিও থেকে। শিরোনাম ‘অটোপাস কেন- কী ব্যাখা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী’। ব্যারিস্টার সুমনের ভিডিওটি পাওয়া গেছে দৈনিক কালবেলার ইউটিউব চ্যানেলে। “দ্রব্যমূল্য নিয়ে বানিজ্যমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন ব্যারিস্টার সুমন” এই শিরোনামে গত ১১ ফেব্রুয়ারি এটি প্রকাশিত হয়েছিল। দুজনেরই ভিডিও থেকে মূল বক্তব্য মুছে দিয়েছে চ্যানেলটি। 

ছয় দিনে ৩০ লাখ ভিউ একটি ভিডিওতে

ইউটিউব চ্যানেলটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া ভিডিওটির শিরোনাম “ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে ওবায়দুল কাদেরকে ধোলাই।” এক সপ্তাহ আগে প্রকাশ করা ভিডিওটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩০ লাখেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। ভিডিওতে নতুন এ সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, “ওই নৌকার মধ্যে কিছু কাউয়া ঢুকছে। ওই কাউয়া বিদায় করার লাইগা ঈগল মার্কা! এখন কইতে পারেন যে কাউয়া কারা? কাউয়া হইল নামে কয় শেখ হাসিনা নামে কয় আওয়ামীলীগ আর কামে? বাগানবাসীর ৫ হাজার টাকা থেইক্কা দুই হাজার মাইরা দেয়।” এক পর্যায়ে এর প্রত্যুত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য, লাফালাফি বাড়াবাড়ি করে যে বক্তৃতা করে, শেখ হাসিনার নামটা পর্যন্ত শালীনতার সঙ্গে উচ্চারণ করেন না।”

যাচাইয়ে দেখা যায়, ওবায়দুল কাদেরের এই ভিডিওটি প্রায় এক বছর আগের এবং সেসময় ব্যারিস্টার সুমন সংসদ সদস্য ছিলেন না। এছাড়া তিনি কথাগুলো ব্যারিস্টার সুমন নয়, বরং বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন। ব্যারিস্টার সুমন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঈগল প্রতীকে অংশ নেন। নির্বাচনে প্রচারণার সময় তিনি ‘কাউয়া’ কথাটি বলেছেন। ওবায়দুল কাদেরকে তিনি ‘কাউয়া’ বলে সম্বোধন করেছেন এমন কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি।

“ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে রেলমন্ত্রীকে ধোলাই | ১৯৬ কোটি টাকা চুরি | ব্যারিস্টার সুমন” এই শিরোনামে চ্যানেলটি গত ২৫ এপ্রিল ব্যারিস্টার সুমনের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “২০১৫ সাল থেকে রেল ক্রসিংকে নিরাপদ করতে আপনি ১৯৬ কোটি টাকা নিসেন। তাইলে কোন কারণে মাননীয় রেলমন্ত্রী এই দায় এড়াবেন এইটা আমি প্রথমে জানতে চাই। মানে এতো কোটি টাকা নিলেন, নিয়ে গেইটম্যানদের নিরাপত্তা বা গেইটের নিরাপত্তার জন্য এই টাকা যে কী করসেন আল্লাহ মাবুদ জানে।”

এই ভিডিওটির মূল অডিও এই সাংসদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে। এতে আগের দিন অর্থাৎ ২৯ জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ঘটা রেলক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সুতরাং দুই মিলিয়ন ভিউ পাওয়া এই ভিডিওটিও সাম্প্রতিক নয়। 

এছাড়াও যথাক্রমে গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল তারিখে, “ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে ধোলাই | ভুয়া বিদ্যুৎ বিল | ব্যারিস্টার সুমন” এবং “ব্যারিস্টার সুমন এবার সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধোলাই | অযোগ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী | ব্যারিস্টার সুমন” নামে দুইটি ভুয়া ভিডিও (,) চ্যানেলটি থেকে প্রচারিত হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর মূল অডিও ব্যারিস্টার সুমনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া হয়েছে (,)।

সুমনের সতর্কবার্তা 

গত রবিবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৪) ব্যারিস্টার সুমন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তাঁকে নিয়ে এসব বিকৃত ভিডিওর ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। “আমার নামে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিয়ে এডিট করা ভিডিও থেকে সাবধান থাকবেন”- ক্যাপশনসহ এই ভিডিওতে তিনি জানান, তার বিভিন্ন ভিডিও, কথাগুলারে এডিট করে, কেটে ভিডিও বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেখা যাচ্ছে অমুক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বললেন ব্যারিস্টার সুমন, অমুক মন্ত্রীকে ধোলাই দিলেন ব্যারিস্টার সুমন। আপনারা যাচাই বাছাই করবেন। এগুলার অনেকগুলাই ভুয়া।… এগুলো একেবারেই সত্য না।…আমার নাম বললে হয়তো অনেক জায়গায়, মিডিয়াতে ভিউজ হয় বেশি। মানুষ এই ভিউজ বাড়ানোর জন্য এইগুলো কাটছাঁট করতেছে।”

“কাটছাঁট করে আমাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতেছে এবং যাদের নাম নিয়ে আসতেছে (ভিডিওতে) তারাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে”, যোগ করেন তিনি। যারা এসব বিকৃত ভিডিও ছড়াচ্ছে তাদের প্রয়োজনে আইনের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কারো সম্মানহানি আমার মধ্য দিয়ে করবেন না।” ব্যারিস্টার সুমন তার সতর্কবার্তায় কোনো চ্যানেলের নাম উল্লেখ না করলেও বার্তাটি প্রকাশের এক দিন পর, অর্থাৎ, ২৯ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ইউটিউব চ্যানেলটি থেকে পোস্ট করা হয়, “রেসপেক্ট আমেরিকান টিভি আজ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত উক্ত চ্যানেল থেকে আর কোন ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।

চ্যানেলটি নিয়ে আরো যা জানা যায়

সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ব্লেডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী রেসপেক্ট আমেরিকান টিভি চ্যানেলটি ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরে খোলা হয়েছে। এই পর্যন্ত দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার পেয়েছে এটি। এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো ভিডিওটি মাত্র সাত মাস আগে প্রকাশিত দেখা যায়। চ্যানেলটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং ২০টিরও বেশি ভাষায় তথ্য দেয় বলে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কোনো ভিডিও তাতে দেখা যায়নি। ভিডিওগুলোর সবই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত এবং এর মধ্যে ১২০-টিরও বেশি সাংসদ সুমনকে নিয়ে করা। শুরুর দিকে অরাজনৈতিক বিষয়ে কিছু ভিডিও প্রকাশ করলেও পরে চ্যানেলটি ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশ শুরু করে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে অনুসারীর সংখ্যা। সোশ্যাল ব্লেডের হিসাবে এর অনুসারী বা সাবস্ক্রাইবার গত ৩০ দিনে এক লাখেরও বেশি বেড়েছে, বৃদ্ধির হার ৩৬৮%। 

ইউটিউব চ্যানেলটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে উপস্থাপক এবং বাংলা কণ্ঠ যুক্ত করতে দেখা গেছে। চ্যানেলটির আপলোড করা সর্বশেষ ৮টি ভিডিওর ক্ষেত্রে দেখা যায়, শেষ ১ মিনিটের মধ্যে একজন নারী উপস্থাপক ভুয়া ভিডিওটির সমর্থনে কথা বলছেন। ৮টি ভিডিওতে অন্তত ৫টি আলাদা নারী চরিত্রকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নারীকণ্ঠের সেই বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থিত নারীটির ঠোঁট নড়াচড়ার সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া, উপস্থাপকের হাত নাড়ানো এবং চোখের পলক ফেলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পুনরাবৃত্তি হতেও দেখা যাচ্ছে। ফলে, দৃশ্যত মনে হচ্ছে, এগুলো বাস্তব কোনো চরিত্র নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেলটির আয় নিরূপণে ডিসমিসল্যাব ‘ওয়াইটিলার্জ’ এবং ‘ইজ দিজ চ্যানেল মনিটাইজড?’ নামের দুইটি টুলের সাহায্য নেয়। এতে দেখা যাচ্ছে, চ্যানেলটি মনিটাইজড অর্থাৎ, বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা হচ্ছে। এছাড়াও, বিভিন্ন ভিডিওর সোর্স কোডে “yt_ad”, “value”: “1” সার্চের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি যাচাই করে চ্যানেলটিতে বিজ্ঞাপন চলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক্ষেত্রে চ্যানেল নিজে আয় করছে কিনা এটি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইউটিউব যে আয় করছে এই বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

যাচাই করবেন কীভাবে

প্রশ্ন হলো, কীভাবে ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করবেন? এক্ষেত্রে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের দেওয়া কিছু পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

ভিডিওটি একাধিক ভেরিফায়েড নিউজ চ্যানেলে পোস্ট করা হচ্ছে কি না দেখুন। ভিডিওর স্ক্রিনে কী দেখাচ্ছে তার সঙ্গে শিরোনাম, ক্যাপশন কিংবা বিবরণ সঙ্গতিপূর্ণ কিনা যাচাই করুন।

ভিডিও ফুটেজটি নিবিড়ভাবে দেখুন। বিকৃত ভিডিওতে সাধারণত কিছু অসঙ্গতি দেখতে পাবেন। যেমন, অসঙ্গতিপূর্ণভাবে হঠাৎ এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে জাম্প করা অথবা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির ঠোঁট না মেলা। যেমন, ব্যারিস্টার সুমনের এই ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যের পর একাধিক মানুষের যে উল্লাসধ্বনি শোনা যায়, তা সাংসদদের শোরগোলের মতো নয়। এছাড়া ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাঁর কথার সঙ্গে ঠোঁট নড়াচড়ারও মিল নেই। 

নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের এ গণমাধ্যমটি আরো বলেছে, ভিডিওতে, বিশেষ করে যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বানানো হয়, সেগুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ড অথবা ফোরগ্রাউন্ডে অস্পষ্টতা (ব্লারিনেস) দেখা যেতে পারে, হঠাৎ করেই কোনো বস্তুর রঙে কয়েক মুহূর্তের জন্য পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যক্তির হাত, পা কিংবা চোখের মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এমন কিছু নড়াচড়া বা গতিবিধি দেখা যাবে যা একজন মানুষের জন্য স্বাভাবিক নয়। এছাড়া, অডিওটি বারবার শুনে দেখার পরামর্শ দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, এর ফলে গলার স্বরের আকস্মিক পরিবর্তন ও শব্দের অসামঞ্জস্যতা বোঝা যাবে।

আরো কিছু লেখা