নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check report exposing manipulated news anchor videos falsely claiming that Bangladesh’s 13th national election has been cancelled, created by adding misleading audio to original broadcast footage.

সংবাদপাঠের ভিডিও বিকৃত করে জাতীয় নির্বাচন বাতিলের ভুয়া প্রচারণা

নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলছে তোড়জোড়। চলছে প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারণা। এরই মধ্যে একাধিক গণমাধ্যমের সংবাদ পাঠকদের ভিডিওর অংশবিশেষ প্রচার করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের দাবি করতেও দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, এ ধরণের কোনো ঘোষণা নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া হয়নি এবং সংবাদ পাঠকদের ভিডিওর সঙ্গে ভিন্ন অডিও যোগ করে এ ধরণের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। 

নির্বাচনের সময় এই ধরণের অপতথ্য ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই এইসব অপতথ্য মোকাবেলায় হতে হবে সচেতন। এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে মানুষকে আরও সূক্ষ্মবোধসম্পন্ন হতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে সূত্রকে, যাচাই করতে হবে একাধিক মাধ্যম থেকে।

ভিডিও ১

ফেসবুকের “সংগ্রামী কণ্ঠস্বর ১” নামের একটি পেজ থেকে গত ১৪ জানুয়ারি ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “বন্ধ হতে যাচ্ছে ১২ তারিকে নির্বাচন,,আওয়ামী লীগকে নিবার্চনে না আনলে নির্বাচন সম্পন বন্ধ করবেন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।” 

ভিডিওর প্রথম ১১ সেকেন্ডে দেখা যায় একজন সংবাদ পাঠক বলছেন, “আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে হবে। তা না হয় নির্বাচন পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। হঠাৎ করে যেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে উঠে পড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। কপাল খুলতে চলেছে আওয়ামী লীগ পার্টির।” 

অডিওতে যা শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের নড়াচড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্ক্রিনে প্রেজেন্টারের নাম দেখা যায়,  “শাকিল আহমাদ।” এরপর খবরের শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে “দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা।” পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যাখ্যা করার সময় বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্বাচন কমিশন ভবনের ছবি, জাতিসংঘ অধিবেশনের দৃশ্যসহ একাধিক অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওটি ফেসবুকের প্রোফাইল থেকেও পোস্ট করা হয় একই দাবিতে। 

যাচাই করার জন্য সংবাদ পাঠকের দৃশ্যটির কীফ্রেম সার্চ করে দেখা হয়। এতে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে চ্যানেল ২৪ এর ১৩ জানুয়ারিতে প্রকাশ করা একটি ইউটিউব ভিডিও। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম ১১ সেকেন্ডের সঙ্গে ইউটিউবে প্রকাশিত ১৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ১ মিনিট ১৫ থেকে ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড পর্যন্ত হুবহু মিল দেখা যায়। এই ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের পোশাকের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সংবাদ পাঠকের পোশাকের মিল রয়েছে এবং চ্যানেল ২৪ এর ভিডিওতেও পাঠকের নাম “শাকিল আহমাদ” এবং একই সংবাদ এর বুলেটিন দেখা যায়। মূলত সংবাদটি ছিল দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। 

ভিন্ন একটি অডিও জুড়ে দিয়ে নির্বাচন বাতিলের ভুয়া দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে।

ভিডিও ২

ডিসমিসল্যাব প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে ফেসবুকে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে একাধিক ভিডিও দেখতে পায়।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১১ জানুয়ারি ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন অবৈধ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন,,আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ফিরিয়ে আনবেন।”

ভিডিওর প্রথম ১৯ সেকেন্ডে দেখা যায় একজন সংবাদ পাঠক বলছেন, “অবশেষে ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা। হঠাৎ একি কাণ্ড ঘটিয়ে দিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। ড. ইউনূসকে সরাসরি ফোন দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার আদেশ দিলেন। ভয়ানক ভাবে বিপদের মুখে ড. ইউনূস। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে না আনলে, নির্বাচন একেবারে বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।” 

এই অডিওতেও যা শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের নড়াচড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খবর পাঠকের নাম লেখা আছে, “মামুন উর রশীদ।” এরপর খবরের বিষয়বস্তু হিসেবে স্ক্রলে দেখা যায়,  “রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল থেকে ৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার।” পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যাখ্যা করার সময় বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্য, যেমন মিছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখানো হয়। ফেসবুকের একাধিক (, , ) প্রোফাইল থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয় একই দাবিতে। 

যাচাই করার জন্য সংবাদ পাঠকের দৃশ্যটির কীফ্রেম সার্চ করে দেখা হয়। এতে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে চ্যানেল ২৪ এর ১৩ জানুয়ারিতে প্রকাশ করা একটি ইউটিউব ভিডিও। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম ১৯ সেকেন্ডের সঙ্গে ইউটিউবে প্রকাশিত ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ২ সেকেন্ড থেকে ১৯ সেকেন্ড পর্যন্ত হুবহু মিল রয়েছে। এই ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের পোশাকের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সংবাদ পাঠকের পোশাকের মিল রয়েছে এবং চ্যানেল ২৪ এর ভিডিওতেও পাঠকের নাম “মামুন উর রশীদ” এবং একই সংবাদ এর বুলেটিন দেখা যায়। সংবাদটি ছিল রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনের। মূল ভিডিওর সঙ্গে ভিন্ন একটি অডিও জুড়ে দিয়ে নির্বাচন বাতিলের ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

ভিডিও ৩

ফেসবুকের “ওরা আসবে চুপিচুপি. ৭১” নামের একটি পেজ থেকে গত ১২ জানুয়ারি, ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন বাতিল❌ জাতিসংঘের অধীনে হবে নির্বাচন,আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে না আনলে, নির্বাচন সুস্থ হবে না।”

ভিডিওর প্রথম ১২ সেকেন্ডে দেখা যায় একজন সংবাদ পাঠক বলছেন, “এদিকে হঠাৎ করেই ঘুরে যাচ্ছে নির্বাচন। এবার সরাসরি জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। সেই নির্বাচনে থাকছে আওয়ামী লীগও। ভয়ানক বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বিএনপি এবং তারেক রহমান।” অডিওতে যা শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের নড়াচড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যাখ্যা করার সময় অন্য ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর মতো অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের একটি দৃশ্যও দেখা যায়, যা নিয়ে ডিসমিসল্যাব আগেও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

যাচাই করার জন্য সংবাদ পাঠকের দৃশ্যটির কীফ্রেম সার্চ করে দেখা হয়। এতে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে এটিএন নিউজ লাইভে প্রকাশ করা একটি ইউটিউব ভিডিও। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম ১২ সেকেন্ডের সঙ্গে গত ২২ মে ইউটিউবে প্রকাশিত ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির প্রথম ১২ সেকেন্ডের হুবহু মিল দেখা যায়। এই ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের পোশাকের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সংবাদ পাঠকের পোশাকের মিল রয়েছে। এছাড়া ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের এবং হাতের নড়াচড়ার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর সংবাদ পাঠকের। 

ভিডিও ৪

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১২ জানুয়ারি, ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “অবশেষে বন্ধ হতে যাচ্ছে ১২ তারিকে নির্বাচন,,আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবার্চন মানবে না জনগন, বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন ,,।”  

ভিডিওর প্রথম ৭ সেকেন্ডে দেখা যায় একজন সংবাদ পাঠক বলছেন, “ফাইনালি বন্ধ করা হলো ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন। হঠাৎ করেই তিন দিক থেকে ফেঁসে গেলেন ড. ইউনূস।” অডিওতে যা শোনা যাচ্ছে তার সঙ্গে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের নড়াচড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যাখ্যা করার সময় অন্য ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর মতো অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওর ১৫ সেকেন্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভিডিও দেখা যায়। এই ভিডিওটি নিয়ে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। ফেসবুকের একাধিক (, , , ) প্রোফাইল এবং পেজ থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয় একই দাবিতে।

যাচাই করার জন্য কীফ্রেম সার্চ করে দেখা হয়। এতে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে নিউজ ২৪ এর ২০২২ সালের ২০ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিও। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম ৭ সেকেন্ডের সঙ্গে ইউটিউবে প্রকাশিত ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ৭ সেকেন্ডের হুবহু মিল রয়েছে। এই ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের পোশাকের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সংবাদ পাঠকের পোশাকের মিল রয়েছে। এছাড়া ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংবাদ পাঠকের ঠোঁটের এবং হাতের নড়াচড়ার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর সংবাদ পাঠকের। সংবাদ পাঠকের ভিডিওর সঙ্গে ভিন্ন একটি অডিও জুড়ে দিয়ে নির্বাচন বাতিলের ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

উৎস যখন স্যাটায়ার পেজ

ছড়িয়ে পড়া সবগুলো ভিডিওর নিচে দেখা যায় “জানুরন টিভি” নামের একটি ফেসবুক পেজের স্ক্রল দেখা যায়। লাল রঙ এর স্ক্রলটিতে জানুরন টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক এবং ইউটিউব লিংক দেখা যায়।

পেজটিতে গিয়ে দেখা যায়, পেজটি মূলত বিনোদনের উদ্দ্যেশ্যে বানানো একটি স্যাটায়ার বা প্যারোডি পেজ। পেজটির বায়োতে লেখা, ““Unofficial Media Page / Entertainment Purpose Only 🥰সুধু মাএ বিনেদন এর জন্য,কেউ সিরিয়াস নিবেন না,এই পেইজের পোষ্ট বা ভিডিও কোনো দল বা মানুষকে উদ্দেশে করে না,ভুল হলে কমা দৃষ্টিতে দেখবেন i love you allah🥰” (বানান অপরিবর্তিত)। 

পেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্যান্য গণমাধ্যমের সংবাদ পাঠকদের সংবাদ পড়ার খণ্ডিত দৃশ্য অপ্রাসঙ্গিক অডিওর সঙ্গে যুক্ত করে পোস্ট করা হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো (, , , ) এই পেজে পাওয়া যায়। স্যাটায়ার পেজ থেকে কন্টেন্ট হিসেবে নির্মিত হলেও সত্য দাবি আকারে প্রচার হচ্ছে ফেসবুকের অন্য প্রোফাইল, পেজ, গ্রুপ থেকে যা অনেকেই সত্য বলে ধরে নিচ্ছেন এবং শেয়ার করছেন। 

দাবি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন যা বলছে

ছড়িয়ে পড়া সবগুলো ভিডিওতে দাবি ছিল ১২ তারিখের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ডিসমিসল্যাব যোগাযোগ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সঙ্গে। তিনি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করে বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ১২ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরণের বিভ্রান্তি নেই।” 

এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে গত ১৪ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একাধিক (, , ) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি, এক দিন আগেও নয়, পরেও নয়: অধ্যাপক ইউনূস।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে যাদের সংশয় রয়েছে, তা উড়িয়ে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।” 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন ও ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর এক দিন আগে বা পরে নয়,’ বলেন তিনি।” 

চিপ ফেক ভিডিও বুঝার উপায়

চিপ ফেক হলো সস্তা মাধ্যম ব্যবহার করে অডিও-ভিডিও কারসাজি (ফটোশপ, ভিডিওর প্লেব্যাক স্পিড বৃদ্ধি বা হ্রাস, ভুল কনটেক্সট ব্যবহার) ইত্যাদির মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো। 

কনফারেন্স অন কম্পিউটার ভিশন অ্যান্ড প্যাটার্ন রেকগনিশন (সিএভপিআর) এর কম্পিউটার ভিশন ফাউন্ডেশন (সিএভএফ)-এ প্রকাশিত বোহাচেক এবং ফরিদ এর একটি গবেষণায়, বিকৃত নিউজ ভিডিও শনাক্ত করার জন্য চারটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

প্রথমটি হলো, কোনো ভিডিও ভুয়া কি না তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য লক্ষণ হলো ‘ট্রান্সক্রিপশন মিসম্যাচ’। অর্থাৎ যদি সংবাদ উপস্থাপকের ঠোঁট নড়ানো পড়া যায় এবং সেটি যদি শোনা কথাগুলোর সঙ্গে না মিলে; তবে বুঝতে হবে কন্টেন্টটি বিকৃত করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, মানুষের দ্বারা যাচাই করার একটি সহজ উপায় হলো ‘এম, বি, পি’ নিয়ম। যেহেতু এই বর্ণ বা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে ঠোঁট দুটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়, তাই এই বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় কোনো ভিডিওতে মুখ খোলা থাকলে সেটি স্পষ্টতই একটি ভুয়া ভিডিও। তৃতীয়ত, ‘বায়োলজিক্যাল ইনকনসিস্টেন্সি’ বা শারীরিক অসঙ্গতিগুলোর দিকে খেয়াল রাখা, যেমন মাথার নড়াচড়া এবং কানের ভঙ্গি যা কথার ছন্দের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা আড়ষ্ট মনে হতে পারে। পরিশেষে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ সেকেন্ডের একটি ক্লিপে যদি কথা এবং ঠোঁট নাড়ার ছন্দে ৫০% অমিল পাওয়া যায়, তবে সেটিকে লিপ-সিঙ্ক ডিপফেক হিসেবে ধরা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও ডিসমিসল্যাব ইউটিউবে প্রকাশিত চিপ ফেক ভিডিও নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। 

আরো কিছু লেখা