
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে একাধিক গণমাধ্যম আসামি আটকের এমন এক ছবি ব্যবহার করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
গত ৮ মার্চ গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর “ভারতে যেভাবে গ্রেফতার হলেন ফয়সাল, দেশত্যাগ করেন যে সীমান্ত দিয়ে” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে খুনের মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাতের পশ্চিমবঙ্গে তারা গ্রেফতার হয়েছেন” (বানান অপরিবর্তিত)।

এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির নিচে ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়েছে, “শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ (ডানে) ও তার সহযোগী আলমগীর। ছবি: যুগান্তর।” প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটি ছিল এআই দিয়ে তৈরি।
আজ, ৯ মার্চে দৈনিক ইনকিলাবের প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই ছবি ব্যবহার করা হয়। এ প্রতিবেদনে ছবিটি আংশিক কেটে ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “ভারতে গ্রেফতার হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল-আলমগীর।”
অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা মেইলের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছবিটি ব্যবহার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “গ্রেফতারের পর হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।”
প্রতিবেদনে লেখা হয়, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।” এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটিতে দেখা যায়, একজন আসামির হাতে লাল কালিতে গোল করে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
এটিএন বাংলা “হাদী হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে আটক, বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ প্রতিবেদনেও ব্যবহৃত ছবিটিতে আসামির হাতে লাল কালিতে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
ঢাকা প্রকাশ “সংগৃহীত” ক্যাপশনে ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মানবকণ্ঠ একই ছবি ব্যবহার করে “ভারতে যেভাবে গ্রেফতার হলেন শুটার ফয়সাল করিম” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রেডিও বার্তা এবং ডেইলি সানের প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ছবিটি দেখা যায়। এছাড়া, এমটি নিউজের প্রতিবেদনে একাধিক ছবির সঙ্গে এআই নির্মিত ছবিটিও দেখা যায়।

একাধিক গণমাধ্যম পত্রিকাতেও ছাপিয়েছে ছবিটি। ৯ মার্চ সমকাল এর ছাপা সংস্করণের প্রথম পাতায় “হাদি হত্যার আসামি ভারতে গ্রেপ্তার, আনা হচ্ছে ঢাকায়” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে এআই ছবিটি দেখা যায়। একই দিনে “সংগৃহীত” ক্যাপশনে ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা যায় জনকণ্ঠ এবং যুগান্তরকে।ডেইলি সানও ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি কিনা তা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল সিন্থআইডির মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। পরীক্ষায় দেখা যায়, ছবিটি গুগল এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সিন্থআইডির ফলাফলে ছবিটিতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া গিয়েছে বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ছবিটি গুগলের কোনো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। সিন্থআইডি এই ফলাফলের ব্যাপারে ‘কনফিডেন্স লেভেল’ বা নিশ্চয়তার মাত্রাকে ‘উচ্চ’ বলেও নিশ্চিত করেছে।

ফলাফলটি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝাতে টুলটি একটি ‘হিট ম্যাপ’ বা ভিজ্যুয়াল গ্রিড দেখিয়েছে। যাচাইয়ের ফলাফলে ছবিটির মাঝামাঝি এবং উপরের অংশের ওপর নীল রঙের ছক বা আবরণ দেখা যাচ্ছে। এটি নির্দেশ করে, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির মিলনার লাইব্রেরির “নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ (মূল্যায়ন)” শীর্ষক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গবেষণা, অধ্যয়ন এবং উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ছবি ব্যবহারের আগে তার বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। ছবির মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং যথার্থতা নির্ধারণের জন্য সেগুলোকে জার্নাল, নিবন্ধ বা বইসহ অন্য যেকোনো উৎসের মতোই মূল্যায়ন করা উচিত। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, ব্যবহৃত ছবিকে বিভিন্ন স্তরে মূল্যায়ন করা উচিত। ছবির সঙ্গে লিখিত তথ্য, ছবির উৎস এবং মূল প্রেক্ষাপট, এবং ছবির প্রযুক্তিগত মান বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।