আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

তামারা ইয়াসমীন তমা

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
যেভাবে সামাজিক মাধ্যমে ডালপালা মেলছে নিখোঁজ সংবাদ

যেভাবে সামাজিক মাধ্যমে ডালপালা মেলছে নিখোঁজ সংবাদ

আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

তামারা ইয়াসমীন তমা

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সপ্তাহজুড়ে শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়া বাড়ছে দাবি করে সতর্কবার্তা প্রচারিত হতে দেখা গেছে। ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশু নিখোঁজের দাবি সময়ের সঙ্গে ‘৪৮ ঘণ্টায় নিখোঁজ ৩৫’ হিসেবে ভাইরাল হয। শুরুতে চট্টগ্রামের শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে যুক্ত হয় ঢাকা ও কুমিল্লার নাম। সর্বশেষ ৭ জুলাই সারাদেশে দুই দিনে দুইশোর বেশি শিশু-কিশোর নিখোঁজ বলেও প্রচারিত হতে থাকে। অনেক দাবির সঙ্গেই শিশুদের হারানো বিজ্ঞপ্তির স্ক্রিনশটও দেওয়া হয়। এরই মধ্যে পোস্টগুলোকে নিছক গুজব হিসবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে পুলিশ। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনেও ঘটনাগুলো গুজব হিসেবে আসে। পুরো বিষয়টি ঘিরে জন্ম নেওয়া নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘নিখোঁজ’ শিশুদের ছবিসহ ভাইরাল একটি পোস্ট ধরে আগায় ডিসমিসল্যাব। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে তারা প্রত্যেকেই নিশ্চিত করে যে বিজ্ঞপ্তিগুলো ভুয়া ছিল না। বরং সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিগুলো ছড়িয়ে পড়ায় শিশুদের সন্ধান পাওয়ার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার কথা জানিয়েছে দুটি পরিবার। ১৪ শিশু এরই মধ্যে তাদের পরিবারের কাছে ফিরলেও চার শিশুর কোনোরকম সন্ধান না পাওয়ায় এখনও উদ্বিগ্ন তাদের অভিভাবকরা। অন্যদিকে, নিখোঁজ নিয়ে আলোচনার মাঝে ছড়িয়েছে ছেলেধরা আতঙ্কও। পুরো পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছে ডিসমিসল্যাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, “ভুল তথ্যের প্রসার বা আতঙ্ক রোধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সঠিক তথ্য দেওয়া, তথ্য চেপে রাখা নয়। যেহেতু যোগাযোগের সকল মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, বা নিয়ন্ত্রণ করাও উচিত নয়, সেহেতু ঢালাওভাবে অস্বীকার না করে, বরং সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত।” তথ্যযাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. সুমন রহমান মনে করেন এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল কাজটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। তিনি ডিসমিসল্যাবকে বলেন, “বাইরের দেশের হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ডেটাবেজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। আমাদের থানাতেও হয়তো আছে। এধরনের ডেটাবেজ উন্মুক্ত থাকলে মানুষ ডেটাবেজকে বেশি বিশ্বাস করবে। তখন গুজব ছড়ালেও তারা ডেটাবেজে গিয়ে চেক করবে বিষয়টি সত্য কিনা।”

১০ দিয়ে শুরু হয়ে ২০০+

নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রকম তথ্য ছড়ায়। প্রতিদিন সংখ্যাটি বাড়তে থাকার পাশাপাশি একই দিনে বিভিন্ন দাবিতে পোস্ট ছড়াতেও দেখা যায়। “২৪ ঘন্টার মধ্যে নিখোঁজ ১০”- ক্যাপশনে ৩ জুলাই শুধু চট্টগ্রামেই ১০ জন নিখোঁজ হওয়ার দাবি করা হয়। ‘হেল্পলাইন চিটাগং’ নামক গ্রুপের সূত্র উল্লেখ করে এই পোস্টে শিশুদের সন্ধান চাওয়া পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত ছিল। এছাড়াও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আরও কিছু গ্রুপে একই দিন একই দাবিতে পোস্ট ছড়াতে দেখা যায় (, )। 

পরদিন ৪ জুলাইয়ের একটি পোস্টে মুসলিম তরুণ-তরুণীরা টার্গেটের শিকার হচ্ছে বলে পোস্ট দেন এক ব্যবহারকারী। তিনি লিখেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন মুসলিম তরুণ-তরুণী নিখোঁজ হয়েছে ৷ উ*গ্র*বা*দী*রা আমাদের মুসলিম ছেলে-মেয়েদেরকে নিরাপদে থাকতে দিচ্ছে না!” এরপর ৫ জুলাই একটি ফেসবুক গ্রুপে এক ব্যবহারকারী পোস্ট করেন, চট্টগ্রামে ৫ মেয়েসহ মোট ১১ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই দাবিতে আরো কয়েকটি পোস্ট (, ) পাওয়া যায়।

৬ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে নতুন আরেকটি দাবি ছড়াতে দেখা যায়। ফেসবুক পোস্টে একজন লিখেন, “লাস্ট ৭২ ঘণ্টায় ঢাকাসহ, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার ৫০+ শিশু নিখোঁজ।” এই পোস্টটি এক হাজারের বেশিবার শেয়ার হতে দেখা যায়। একই দাবিতে পরবর্তী দিনগুলোতেও পোস্ট (, , , ) পাওয়া যায়। একইদিন “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩৫ শিশু নিখোঁজ” হওয়ার দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (, , , , )।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের নামও ব্যবহার করা হয় অনেক দাবিতে। এর মধ্যে আছে প্রথম আলো, কালবেলা, একাত্তর টিভি, নাগরিক টিভি, ও সময় টিভি। তবে গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন সংস্করণ কিংবা ফেসবুক পেজ অনুসন্ধান করে উল্লেখিত দাবি নিয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ বিষয়ে সময় টিভি (, ,) ও কালবেলা-র বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন মিলে। 

এদিকে নিখোঁজের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। ৭ জুলাই পর্যন্ত দুইশরও অধিক শিশু নিখোঁজের দাবিও করতে দেখা যায় বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে (, , , , )।

শিশুরা কি আসলেই নিখোঁজ হচ্ছে?

শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে কাব্য গাজী নামের এক ব্যবহারকারীর পোস্টে সংযুক্ত ২৮জন নিখোঁজ শিশুর হারানো বিজ্ঞপ্তির একটি পোস্ট পায় ডিসমিসল্যাব। তবে এর মধ্যে ৫টি পোস্ট ছিল উদ্ধার হওয়া শিশুর বাবা-মার পরিচয় চেয়ে দেওয়া পোস্ট, একটি ছিল ভারতীয় এক শিশুর নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি, অপর একটি শিশুর ফোন নাম্বার পাওয়া যায়নি। বাকি ২১ জনের মধ্যে তিনজনের ফোন নাম্বারে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। যে ১৮ শিশুর পরিবারের সঙ্গে ডিসমিসল্যাব কথা বলেছে, তারা সবাই শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ সঠিক এবং সেজন্য ফেসবুকে তাদের হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচারের বিষয়টিও সঠিক বলে নিশ্চিত করে। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে তাদের পরিবার ফিরে পেলেও চারজনের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফিরে আসা শিশুদের মধ্যে দুইজনের পরিবার ৭ তারিখও তাদের সন্তানের হদিস না পাওয়ার কথা জানায়। তবে ৮ জুলাই আবার যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে আগের দিন ডিসমিসল্যাবের কথা হওয়ার পর রাতের দিকে তারা এই শিশুদের সন্ধান পান।

এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের নাম ও নিখোঁজ পোস্ট: মোহাম্মদ আরাফাত, সাব্বির আহমেদ, শামসুল ইসলাম, আসাদুল্লাহ

এছাড়া আজকের পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় তারা হারিয়ে যাওয়া ২৫ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। এর মধ্যে নিখোঁজ ১৯ জনই ঘরে ফিরে এসেছে, বাকি ৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। খোঁজ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৯ জনের ফিরে আসার তথ্য দেওয়া হয়। 

৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ, নাকি আগের ঘটনা?

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে গত ২৪ ঘন্টা, ৩৬ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা বা ৭২ ঘণ্টায় এই সংখ্যক শিশু নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হলেও ডিসমিসল্যাব ২১ শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে। এই শিশুদের অনেকেই গত মে এবং জুন মাস থেকে নিখোঁজ বলে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। এছাড়া ভাইরাল স্ক্রিনশটগুলো যাচাইয়েও দেখা যায় এগুলোর অনেকগুলো পোস্ট অন্তত ৭২ ঘণ্টার আগে ফেসবুকে পোস্ট করা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৬ জন নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জুনে এই সংখ্যা ছিল ২৬০ জন।

শুধু ঢাকা-চট্টগ্রামে নিখোঁজ হচ্ছে?

শুরুতে (৩ জুলাইয়ের পোস্ট) চট্টগ্রামের শিশু-কিশোররা নিখোঁজ হচ্ছে এমন দাবি করা হলেও পরবর্তী কয়দিনের পোস্টে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিশুদের কথা বলা হয়। এর পর নিখোঁজ ঘটনার সংখ্যা এক রেখে পোস্টে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নাম যুক্ত করতে দেখা যায়।

ডিসমিসল্যাব যে ১৮টি নাম্বারে যোগাযোগ করতে সম্ভব হয়েছে সেখানে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম নয়, সিলেট, বরগুনা, টাঙাইল, নরসিংদী, নড়াইল, শরীয়তপুরসহ আরো বেশ কিছু জেলার শিশু রয়েছে। 

এই ধরনের তথ্যের প্রতিক্রিয়া কী?

নিখোঁজ ফাহিম আহমেদ সিয়ামের অভিভাবক জানিয়েছেন তারা সামাজিক মাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ, ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় ঢাকার রায়েরবাজার থেকে একজন ফোন করে ছেলেটির সন্ধান দেয়। একই প্রতিক্রিয়া জানান, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের একজন অভিভাবক। তবে ফেসবুক ব্যবহাকারীদের কেউ কেউ উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ছেলেধরা আতঙ্কও জনমনে ছড়িয়ে পড়ে, যা অতীতে একাধিকবার দেখা গেছে।

৭ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে সিলেটের গোলাপগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ হিসেবে এক ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও প্রচার (, , , , ) হতে দেখা যায়। পোস্টে দাবি করা হয় অজ্ঞান অবস্থায় বস্তাভর্তি এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকটিকে আটক করা হয়। পোস্টে এমনও বলা হয়, “তারা বাচ্চাদের কিডনাপ করে খেয়ে ফেলে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ বিক্রি করে”। তবে ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিটির নাম আব্দুল মজিদ এবং তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় মানুষজন তাকে গণপিটুনি দেয়। সিলেটের স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমও একই তথ্য দিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের মাথার প্রয়োজন এমন গুজবে ছেলেধরা সন্দেহে দেশের বিভিন্ন জেলায় গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির আহত হওয়ার উঠে আসে গণমাধ্যম প্রতিবেদনে। এছাড়া রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

সামাজিক মাধ্যমে ‘নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি’ দেখলে কী করা উচিত?

অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীনের মতে, শিশুদের বিষয়ে মানুষ স্বভাবতই উদ্বিগ্ন বোধ করে। ফলে একটি পোস্ট দেখা মাত্র কিংবা কারো কাছে কিছু শুনলেই তারা তা ফেসবুকে শেয়ার করে দেওয়াকে একটা দায়িত্ব বলে মনে করেন। এরকম পরিস্থিতিতে তিনি বেশকিছু পরামর্শ দেন। নাসরীন বলেন, “প্রথমত, দ্রুত শেয়ার করার তাড়না থেকে মুক্ত হওয়া একজন দায়িত্বশীল মানুষের প্রথম কাজ। দ্বিতীয়ত, ক্রস-চেকিং এর অভ্যাস গড়ে তোলা। যিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন, ইন্টারনেটে কোনো বিষয় সম্পর্কে খোঁজ করে দেখা তার পক্ষে সম্ভব। তৃতীয়ত, সত্য খবরের জন্য শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া, অর্থাৎ নিজের বা কাছাকাছি এলাকায় যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, সেক্ষেত্রে নিজস্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া।”

নিখোঁজ সংবাদ নিয়ে প্রচুর আলোচনা ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ড. সুমন রহমান বলেন, “গণআতঙ্ক থেকে ছেলেধরার গুজব তৈরি হয়, আর গুজব থেকে নিরীহ মানুষ মারা যায়। এগুলো আমরা অতীতে দেখেছি। ফলে আতঙ্ক না হয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। যাচাই করতে হবে। মানুষের উচিত এই ধরনের পোস্টের ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমসহ একাধিক সূত্র যাচাই করা।”

গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনি কী বলছে

বিভিন্ন গণমাধ্যম শিশুদের ‘নিখোঁজ’ সংবাদের বিষয়টিকে গুজব উল্লেখ করে সংবাদ প্রচার (, , , , , ) করেছে। একটি গণমাধ্যম লিখে, “তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এগুলো শুধুই গুজব। যারা হারিয়েছে তারা ঘণ্টা চারেক বাসায় ছিলো না। আবার কোনো শিশু দূরে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল।” তবে কতজন নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে, গণমাধ্যমে তার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিশু নিখোঁজ’-সংক্রান্ত পোস্ট পুলিশের নজরে এসেছে। ‘শিশু নিখোঁজ’-সংক্রান্ত এ ধরনের পোস্ট নিছক গুজব। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হতে পুলিশ সদর দপ্তর সবার প্রতি অনুরোধ জানায়।

তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিতের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা

অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, “আতঙ্ক প্রতিরোধ করতে বরং জনস্বার্থে তথ্য সরবরাহ করা যেতে পারে। কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কীভাবে অন্যদের সাহায্য করতে হবে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে তা প্রচার করা যেতে পারে। এছাড়া সংস্থাসমূহ নিজেরা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে পারে।” তিনি বলেন, “প্রাপ্য তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব প্রথমত সরকারের। সুতরাং যে কোনো ভ্রান্ত তথ্য বা গুজব যখন প্রচারিত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে তা মোকাবেলা করবে, সে বিষয়ে পূর্ব প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। গণমাধ্যমেরও ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রয়োজনীয় বা সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা ও প্রচার করা গণমাধ্যমেরও কাজ।”

ড. সুমন রহমান বলেন, “মানুষকে ‘গুজব’ বলে দিলেই যে মানুষ এইটা নিয়ে চুপ করে থাকবে তা তো না। সে হয়তো ছড়াবে না, কিন্তু মনে মনে আতঙ্কিত থাকবে। তার ভেতরের আতঙ্ক যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত হচ্ছে সত্যিকার অর্থে মানুষকে আতঙ্কমুক্ত করা। আর আতঙ্কমুক্ত করতে হলে তাকে তথ্য দিতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “কিছু মানুষ ফায়দা নিতে পারে, কিন্তু শেষাবধি এধরনের ফেসবুক পোস্ট (নিখোঁজের পোস্ট) মানুষের উপকারই করে। এটা আসলে কারো ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করে না। আমি মনে করি না যে কেউ হারিয়ে গেলে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। গুজব বলে যদি এটিকে হরেদরে প্রচার করা হয়, তাহলে এই তথ্যের প্রবাহটি বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ঘটিয়ে যে উপকার করতো কিংবা শেয়ার করা পোস্ট দেখে যেভাবে হারানো মানুষকে ফিরে পাওয়া যেত- সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে।”

আরো কিছু লেখা