সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Fact-check of a viral video falsely claiming the United States is withdrawing troops from military bases across Middle Eastern and Gulf countries including Qatar, Bahrain, Kuwait and Iraq.

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার করছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে পাওয়া যায়। ওদিকে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আজ ১০ মার্চ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মালামাল নিয়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে যাচ্ছে সৈন্যরা। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “ব্রেকিং কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলির সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে ইরান এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে..।”

Fact-check of a viral video falsely claiming the United States is withdrawing troops from military bases across Middle Eastern and Gulf countries including Qatar, Bahrain, Kuwait and Iraq.
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টটির স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৯০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং শেয়ার হয়েছে দেড় শ বারের বেশি। ১৪০০-এর বেশি ব্যবহারকারী পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (, , , , , ) ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ইন্টেলিজেন্সগো নামের একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা, “পিছু হঠা নয়। অজুহাত নয়। শুধু বিজয়।” ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। একই ভিডিওটি ইন্টেলিজেন্সগো এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করা হয়েছিল।

Fact-check of a viral video falsely claiming the United States is withdrawing troops from military bases across Middle Eastern and Gulf countries including Qatar, Bahrain, Kuwait and Iraq.
অনলাইনে আগে প্রকাশিত মূল ভিডিওটির দৃশ্যের স্ক্রিনশট।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার মধ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে তাদের অবশিষ্ট সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিরিয়া সরকার নিজ দেশের সীমানার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ দমনে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। তাই সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর “ব্যাপক উপস্থিতির” আর প্রয়োজন নেই এমনটাই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Fact-check of a viral video falsely claiming the United States is withdrawing troops from military bases across Middle Eastern and Gulf countries including Qatar, Bahrain, Kuwait and Iraq.
সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ওই কর্মকর্তা জানান, সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট প্রায় ১,০০০ সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি একটি শর্তসাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং ওই অঞ্চলে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

Fact-check of a viral video falsely claiming the United States is withdrawing troops from military bases across Middle Eastern and Gulf countries including Qatar, Bahrain, Kuwait and Iraq.
সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের তথ্য জানিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাদের প্রত্যাহার করছে, এমন কোনো তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়।

আরো কিছু লেখা