
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে, ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে ইরান সীমান্ত এলাকায় মার্কিন কমান্ডো বাহিনী প্রবেশ করছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি পুরোনো। প্রায় আড়াই মাস আগে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, আর মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে ৩ এপ্রিল।
গত ৫ এপ্রিল ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সেখানে কয়েকজন সেনা সদস্যকে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। একজনকে বলতে শোনা যায়, “পাইলটকে উদ্ধারের নামে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সীমানা দিয়ে মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়েছে। বন্ধুরা, কী হতে যাচ্ছে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে? যুদ্ধের পরিধি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করছে। নজর রাখুন মধ্যপ্রাচ্যে।”

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে লাখেরও বেশিবার। ২৩ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “আমেরিকার নিশ্চিত পরাজয় হবে ইনশাআল্লাহ।” আরেকজন লিখেছেন, “পাইলট উদ্দারের নামে আমেরিকা কৌশলে ইরানে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। ইরানের সতর্ক হওয়া উচিত।” (বানান অপরিবর্তিত)
রিভার্স ইমেজ সার্চে প্রায় আড়াই মাস আগের একই ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। সামাজিক মাধ্যম টিকটকে গত ১৭ জানুয়ারি পোস্ট করা ১২ সেকেন্ডের এই ভিডিও পাওয়া যায়। এদিকে ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে ৩ এপ্রিল। পোস্টে স্থানের কোনো উল্লেখ না থাকলেও মন্তব্যে একজন জানতে চাইলে আরেক ব্যবহারকারী জানান, এটি পাকিস্তানের তিরা ভ্যালির দৃশ্য।

এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন আরবি। তারা এই ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানায়।
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল ইরান পৃথক দুটি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে বলে জানা যায় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে। এতে একজন সেনা সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্তত একজন নিখোঁজ ছিলেন। উদ্ধার অভিযানে গত ৫ এপ্রিল নিখোঁজ সেই সেনা উদ্ধার হয়েছেন, বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।