
গৃহকর্মীকে আটকে রেখে এক মাস ধরে ধর্ষণের দায়ে সোনাদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার- এমন দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা বোরহান উদ্দিনের। ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর নাশকতার অভিযোগে তাকে আটকের দৃশ্য এটি।
দশের লাঠি নামের ফেসবুকের একটি পেজ থেকে আমার দেশের নামে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। গত ১২ জানুয়ারি পোস্ট হওয়া এই কার্ডের ভেতরে লেখা, “কাজের মেয়েকে আটকে রেখে একমাস ধরে ধর্ষণ, সোনাদিয়া উপজেলা জামাতের আমির গ্রেফতার।” কার্ডের উপরে আমার দেশ পত্রিকার লোগো দেখা যায়। এছাড়া নিচে ডানপাশে “১১ জানুয়ারী ২০২৬” এবং বামদিকে পত্রিকাটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে।

দ্য ক্র্যাক টিম নামের একটি পেজ থেকে গত ১০ জানুয়ারি আরেকটি ফটোকার্ডে একই দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফটোকার্ডে দুই পুলিশ সদস্যের মাঝে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তির ছবি দেখা যাচ্ছে। কার্ডের ভেতরে লেখা, “কাজের মেয়েকে আটকে রেখে একমাস ধরে ধর্ষণ,সোনাদিয়া উপজেলা জামাতের আমির গ্রেফতার।” কার্ডের উপর তারিখ হিসেবে “০৯ জানুয়ারি, ২০২৬” উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ৪ হাজার ৩০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং কার্ডে ৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২) এবং একাধিক গ্রুপ (১, ২) থেকে ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। ইনস্টাগ্রামেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

আমার দেশ পত্রিকার ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজের ১১ জানুয়ারির ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে নির্দিষ্ট এই তারিখে জামায়াতের কোনো নেতাকে নিয়ে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা খবর সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত যাচাইয়ে পত্রিকাটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। আমার দেশের সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন এই ফটোকার্ডটি ভুয়া।
ফটোকার্ড দুটির ব্যাপারে জানতে কার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি রিজার্ভ ইমেজ সার্চ করলে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর সংবাদমাধ্যম ঢাকা মেইলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ২৫ ও জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ২১ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একাধিক গণমাধ্যমে(১, ২, ৩) ঘটনাটি নিয়ে সেসময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সাথে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের ২১ নভেম্বরে ঢাকা টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফটোকার্ডে ছড়ানো ছবিটি দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা বোরহান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।” গ্রেপ্তারের সময় তিনি জামায়াতের জেলা কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, গৃহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে সোনাদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমিরের গ্রেফতারের দাবিতে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক।
প্রসঙ্গত, মাওলানা বোরহান উদ্দিন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাওলানা বোরহান উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো: সফিকুল ইসলাম।