
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, সাভারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ কেন্দ্রীয় শিবিরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জাবি শিবিরের সাবেক আহ্বায়কসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ভিডিওটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তারের।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি ফ্ল্যাটে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে একটি ব্যাগ, চালের স্তূপ ইত্যাদি জায়গা থেকে একাধিক পিস্তল জব্দ করেছে। আরও দেখা যায় সেনাবাহিনী কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে।

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “সাভারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ কেন্দ্রীয় শিবিরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জাবি শিবিরের সাবেক আহবায়ক নাহিদ সহ তিনজন গ্রেপ্তার।এরা তো ক্যান্টনমেন্ট বানিয়ে রাখছে বাসায়। বাংলাদেশে থাকতে হলে ধান্দাজাত,অস্ত্রজাত এবং একাত্তর বিরোধীকে না বলুন।”
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, সংবাদমাধ্যম স্টার নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “সাভারে অভিযানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রে/প্তার ৩”। ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওর সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটে হুবহু মিল রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনলাইন (১, ২ ,৩) এবং ভিডিও (১, ২) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার এলাকায় চাপাইন রোডের তালতলা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম গালিব ইমতিয়াজ নাহিদও রয়েছে।
অর্থাৎ, সাভারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শিবির নেতা বলে দাবি করা ব্যক্তি আসলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তাই ভিডিওতে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।