
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মন্তব্য বলে একটি বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। কার্ডে দাবি করা হচ্ছে তিনি বলেছেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় ইনকিলাব মঞ্চকে মাঠে নামিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, এমন কোনো মন্তব্য শফিকুল আলম করেননি।

ফেসবুকে একটি পেজ থেকে আজ (৭ ফেব্রুয়ারি) একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “নির্বাচন বানচালের উদ্যেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চকে মাঠে নামিয়েছে পতিত আওয়ামী লীগ”। ফটোকার্ডের উপরে বাম দিকে তারিখ হিসেবে “৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬” এবং ডানদিকে “ভায়া সিএ প্রেস উইং” লেখা।
মন্তব্যটির নিচে লেখা, “শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব”। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “এই ডাস্টবিনের কথা শুনলে আমার ঘৃণায় গাঁ শিরশির করে। তাদের নিজেদের ইনকিলাব মঞ্চ আজকে আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে 🤣তবে, কথা যে মিথ্যা! আমি সেই কথা বলবো না। পুরো দেশটাই যখন আওয়ামী লীগ তখন, ইনকিলাব মঞ্চ ও আওয়ামী লীগ এর। 🫣”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটিতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ৯৫০ এর বেশি মন্তব্য করা হয়েছে পোস্টে, শেয়ার করা হয়েছে ১৩০ বারের অধিক। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তাহলে জুলাই আর আওয়ামী লীগ এক হয়ে গেলো নাকি”। আরেকজন মন্তব্য করেছেন,“ইনকিলাব মঞ্জ। ও এখন আওয়ামী লীগ”। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
সত্যতা যাচাইয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সেখানে ইনকিলাব মঞ্চ বা নির্বাচন সম্পর্কিত এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো সংবাদমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো মন্তব্য নেই।
এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে শফিকুল আলমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রেস সচিব ডিসমিসল্যাবকে জানান, এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। প্রচারিত উক্তিটি ভুয়া এবং বিকৃত।
অর্থাৎ, শফিকুল আলমের ছবির ওপর ভুয়া উক্তি বসিয়ে ভুয়া এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ ঘিরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।