
প্রেস সচিব শফিকুল আলম দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষায় আছেন— এই দাবিতে দুইটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ছবি দুইটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ নামের এক ফেসবুক পেজ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দুইটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়েছে, “‘তাকে দরে ফেলেন যাতে পালাতে না পারে’। ইউনুসের প্রেস সচিব শফিক মব সন্তাসের গডফাদার ফ্লাইট নাম্বার MH197 মালেশিয়া এয়ারলাইন্সে রাত ১০:৫৫ মিনিটে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাইঞ্জে অপেক্ষা আছে” (বানান অপরিবর্তিত)।

পেজ থেকে এটি শেয়ার করা হয় সজীব ওয়াজেদ জয় নামের একটি পাবলিক গ্রুপে। পোস্টটি এ পর্যন্ত ৪৪ বার শেয়ার করা হয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, “সবাই প্রস্তুত থাকেন উপদেষ্টা রা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে।” আরেকজন লিখেছেন, “সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে যারা বাংলাদেশকে ভালবাসেন উপদেষ্টারা যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন ১৭ মাসে যা দূর্নীতি করেছেন দেশটাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে তার হিসাব দিয়ে দেশ থেকে যেতে হবে।”
কিফ্রেম সার্চে দেখা যায়, প্রেস সচিবের অপেক্ষায় থাকার ছবির বিমানবন্দরের দৃশ্য গণমাধ্যমে (১, ২) বহুল ব্যবহৃত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ছবির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত গণমাধ্যমের ছবিতে বিমানবন্দরের ভেতরের দৃশ্য, দাঁড়িয়ে থাকা সকল ব্যক্তি ও তাদের পোশাক ছড়িয়ে পড়া ছবি দুইটির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। তবে মূল ছবিতে শফিকুল আলম নেই।

যাচাই করা ছবি দুইটিতে শফিকুল আলমের অবয়বের আকারের সঙ্গে আশেপাশের ব্যক্তি ও পরিবেশের অসামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়। ছবির সত্যতা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল “সিন্থ-আইডি” (SynthID) ব্যবহার করে এটি এআই দিয়ে তৈরি কি না জানতে চাওয়া হয়।

জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার জানায়, ছবির সম্পূর্ণ অংশ বা বেশিরভাগ অংশই গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও ডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে উভয় ছবিই এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

অর্থাৎ, প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষার ছবি দুইটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।