
বাংলাদেশ ভারতের জন্য ভিসা বন্ধ করলে, বাংলাদেশিদের আর চাল, ডাল, টাকা দিয়ে সাহায্য করা হবে না। আর তখন না খেতে পেরে সব ঠিক হয়ে যাবে। ভারতের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা এমন মন্তব্য করেছেন, এমন দাবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভারতীয় কোনো সংবাদমাধ্যমে, বা সামাজিক মাধ্যমে রোহিত শর্মার ভেরিফায়েড কোনো অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ্যে এমন কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
ফেসবুকে “One Sports” নামের একটি পেইজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। কার্ডে মোস্তাফিজ ও রোহিত শর্মার ছবি দেওয়া আছে। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “বাংলাদেশ যদি ভারতের জন্য ভিসা বন্ধ করতে পারে তাহলে, বাংলাদেশীদের কোনো রকম আর চাল, ডাল, টাকা দিয়ে সাহায্য নয়, না খেতে পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে”। মন্তব্যটি যে রোহিত করেছেন সেটা বোঝাতে নিচে ভারতের সাবেক অধিনায়কের নাম দেওয়া। ক্যাপশনে লেখা, “মোস্তাফিজ ইস্যুতে উ’ত্তপ্ত যখন বাংলাদেশ-ভা*রত সম্পর্ক, তখন রোহিত শর্মা বললেন বাংলাদেশকে চাল ডাল দিয়ে সাহায্য করা বন্ধ করতে!” (বানান অপরিবর্তিত)
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই পোস্টে এক লক্ষ ২৫ হাজারটি প্রতিক্রিয়া ছিল। ১৭ হাজার ৬০০টি মন্তব্যের পাশাপাশি এক হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে এই পোস্ট। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “রিজিক এর মালিক রোহিত শর্মা নয়- রিজিক এর মালিক আমার আল্লাহ”, আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “মানুষটার রুপ অবশেষে চেনা গেলো।”

ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ এবং পেজ (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।
সত্যতা যাচাইয়ে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো গণমাধ্যমে রোহিত শর্মার এমন বক্তব্য খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব। এছাড়া ক্রিকেটার রোহিত শর্মার অফিশিয়াল ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স প্রোফাইলেও এমন মন্তব্যের কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। মোস্তাফিজ, বাংলাদেশ বা ভিসা নিয়ে গত এক মাসে তাকে কোনো পোস্ট করতে দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে গত ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, রবিবার, গুরুগ্রামে মাস্টার্স ইউনিয়নের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, সেখানে তিনি ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হৃদয়বিদারক পরাজয়ের পর তার মানসিক অবস্থার কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, “ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য সেটা ছিল অত্যন্ত কঠিন একটা সময়, কারণ আমি শুধু বিশ্বকাপের দুই-তিন মাস আগে থেকেই নয়, বরং ২০২২ সালে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকেই এই বিশ্বকাপের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলাম।” এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাকে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। আর ২১ ডিসেম্বর বা তার আগে মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার কোনো আলোচনাও শুরু হয়নি।
অর্থাৎ, ভারতের জন্য ভিসা বন্ধ করলে, বাংলাদেশিদের আর চাল, ডাল, টাকা দিয়ে সাহায্য করা হবে না- ধরনের কোনো মন্তব্য রোহিত শর্মাকে প্রকাশ্যে করতে দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল ২০২৬ আসরের দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রতিক্রিয়ায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তরের বিষয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া ও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভারতে খেলতে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে ছড়ানো মিথ্যা দাবি নিয়ে আগেও একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিসমিসল্যাব।