
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সেটি নির্বাচন পরবর্তী হামলার দৃশ্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে, মন খুলে ভোট দেওয়ায় মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়া দলটি। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল ঘটনাটি নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগের। নওগাঁয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার দৃশ্য এটি।
ফেসবুকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ভিডিওটি পোস্ট (১, ২) হতে দেখা যায়। একই ভিডিও অভিন্ন ক্যাপশনে শেয়ার করা হয়। বলা হয়, “ক্ষমতা পাওয়ার পর যায় যাইগায় হামলা মানুষ মন খুলে ভোট দেওয়াটাই কি অপরাধ ছিলো নাকি। যারাই তাদের বিপক্ষে ভোট দিছে তাদের উপরেই হামলা চালাচ্ছে মানুষ বুজক এখন কাকে ক্ষমতায় আনছে মাত্র য় শুরু করছে।” (বানান অপরিবর্তিত)
“জামাতে ইসলাম দাঁড়িপাল্লা” নামের প্রোফাইলের ভিডিওটি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯২ বার শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্যে এক ব্যবহারকারী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “এটার নামই হলো আই হ্যাভ এ প্লান।” প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।”
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের শুরুতে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে সেটি অনলাইনে আর কোথাও পাওয়া যায় কি না তা খুঁজে দেখে ডিসমিসল্যাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিও (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যম সমকালের অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওর শিরোনাম ছিল, “নওগাঁয় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সং ঘ র্ষ, আ হ ত ১০ | |”
বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমকালের প্রচারিত ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড ভিডিওর ১৬ থেকে ২৭ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে বর্তমানে ছড়ানো ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখা হয়। ঘটনাটি নিয়ে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ-৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হোন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমকালের প্রচারিত ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড ভিডিওর ১৬ থেকে ২৭ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে বর্তমানে ছড়ানো ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখা হয়। ঘটনাটি নিয়ে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ-৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হোন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।
অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময়ের একটি সংঘর্ষের ঘটনা বর্তমানে নির্বাচনের পরে বিপক্ষে ভোট দেওয়া মানুষজনের অপর হামলা বলে ছড়ানো হচ্ছে, যা সঠিক নয়।