
ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, নির্বাচন উপলক্ষ্যে সবাইকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে দর্শকদের কমেন্টে বিকাশ নম্বর দিতে বলছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি বাস্তব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তারেক রহমানের পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভিডিওটি বানানো হয়েছে। এআই শনাক্তকরণ টুল ডিপফেক-ও-মিটারের সাহায্যে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে “জাইমা রহমান” নামের পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী, আমি ১২ তারিখ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সবাইকে ২০ হাজার করে টাকা দিব। টাকা পেতে হলে আগে পেজটা ফলো করেন, আর ভিডিওটা শেয়ার করে দেন আর কমেন্টে বিকাশ নাম্বার দেন।”

ভিডিওতে তারেক রহমানকে একটি মঞ্চে মাইক হাতে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। তার পেছনের ব্যানারে লেখা, “হীর রাহমানির রাহী।” ভিডিওর ৭ সেকেন্ডে তারেক রহমানের পেছনের ব্যানারের লেখা বদলে যায়। লেখার দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়, তবে দুই লাইনে এমন সব অক্ষর ব্যবহার করে শব্দ লেখা, যার অধিকাংশের সঙ্গে বাংলা বর্ণমালার কোনো অক্ষরের মিল নেই। ব্যানারে যে ব্যক্তির ছবি দেখা যায় তিনিও তারেক রহমান নন। এমন অসঙ্গতি সাধারণত এআই দিয়ে বানানো ছবি এবং ভিডিওর ক্ষেত্রে দেখা যায়। ভিডিওটি ২,১০০ বারের বেশি দেখা হয়েছে।
ভিডিওর কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বিএনপি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “নির্বাচিত হলে হাতিয়ায় নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিএনপি: তারেক রহমান।” প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল লক্ষণীয়।

একই ভিডিও ফেসবুকে “তারেক রহমান ৯.৯” নামের আরেকটি পেজ থেকে পোস্ট করা হয় একই দাবিতে। ভিডিওটি ২ হাজার ৪০০ বারের বেশিবার দেখা হয়েছে।
দুটি ভিডিওর মন্তব্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, অনেকেই পোস্টটিকে সত্য ভেবে নিজের নাম্বার দিয়েছেন। প্রথম ভিডিওর পোস্টে এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, “এটা আমার বিকাশ নাম্বার ০১৭*******২।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “বিএনপি জিন্দাবাদ বিকাশ নৎ ও নগর ০১৯*******৭।”
দ্বিতীয় ভিডিওতেও অনেকেই নিজের নাম্বার মন্তব্যে লিখে দিয়েছেন। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, “33বার।শেয়ার।করলাম।কোন।কিছু।আমি।পাইনাই।তাই।আমি।কোন।কিছু।লিখে।আপনাদের।সমাই।নষ্ট।করতে।চাইনা।ইতি।বিএনপি।জিনদবাদ…019*******4।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “017*******0 এটা আমার বিকাশ নাম্বার বিএনপি জিন্দাবাদ আরেক রহমান জিন্দাবাদ।”
ফেসবুকে “জাইমা রহমান ১ম” নামের একটি পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, “আমি ১২ তারিখ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সবাইকে ২০ হাজার করে টাকা দিব। টাকা পেতে হলে আগে পেজটা ফলো করেন, আর ভিডিওটা শেয়ার করে দেন আর কমেন্টে বিকাশ নাম্বার দেন।”

ভিডিওতে তারেক রহমানকে একটি মঞ্চে মাইকের সামনে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। মাইকে লেখা, “পারভেজ মাইক”। ভিডিওর ৮ সেকেন্ডে হঠাৎ তারেক রহমানের কপালে একটি সাদা দাগ দেখা যায়। এবং “পারভেজ মাইক” লেখাটির অক্ষর বদলে যায়। ভিডিওটি ২০ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এই ভিডিওর কমেন্ট বক্সেও একাধিক মন্তব্যকারী নাম্বার দিয়েছেন।
ভিডিওটির কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বিএনপির অফিসিয়াল ইউটিউব পেজে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২২ জানুয়ারি পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশন ছিল, “সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ | তারেক রহমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬ (22 Jan 2026)।” এই ভিডিওর ১ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে তারেক রহমানকে মঞ্চে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। এ ভিডিওতেও “পারভেজ মাইক” লেখাটি আছে। এই ভিডিওটি ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বানানো হয়েছে।

অধিকতর যাচাইয়ে, কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল ডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে সবগুলো ভিডিও এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
অর্থাৎ, ভিডিওগুলো বাস্তব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তারেক রহমানের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ভিডিওগুলো বানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিসমিসল্যাব এর আগেও জুবাইদা রহমান এবং জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওর ওপর ফ্যাক্টচেক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।