মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব
বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করা ব্যক্তি মার্কিন সরকারের কেউ নন
This article is more than 4 months old
Copy-of-Feature-Image-2

বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করা ব্যক্তি মার্কিন সরকারের কেউ নন

মিনহাজ আমান
রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব

রাজধানী ঢাকায় ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ স্থগিত হওয়ার পর দেশের একাধিক গণমাধ্যমে (, , ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা মিয়ান আরাফি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছেন এমন একটি খবর প্রচারিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, মিয়ান আরাফি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো প্রতিনিধি নন।

আজ বিএনপির নয়াপল্টনে আয়োজিত মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ-নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের জেরে সমাবেশটি স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আগামীকাল হরতাল আহ্বান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে (, , ) প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছেন জো বাইডেনের উপদেষ্টা মিয়ান আরাফি নামের এক ব্যক্তি। এছাড়া একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে তাঁর ইংরেজিতে রাখা বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়। 

কিন্তু মিয়ান আরাফির নাম ধরে অনুসন্ধান করে ডিসমিসল্যাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কোনো উপদেষ্টার নাম পায়নি। হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটসহ নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত জো বাইডেনের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের প্রকাশিত তালিকাতেও মিয়ান আরাফি নামে কেউ নেই। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস দৈনিক কালবেলাকে জানিয়েছে, “ওই ভদ্রলোক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে কথা বলেন না। তিনি সরকার সংশ্লিষ্ট কেউ নন।”

অনলাইনে বিভিন্ন অনুসন্ধানের পর মিয়ান আরাফি(Mian Arefy) নামের একজন ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায় ফেসবুকে। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর আমেরিকা বাংলা চ্যানেল(এবিসি) নামের একটি ফেসবুক পেজে আয়োজিত টকশোতেও (১৯ সেকেন্ডে) ছবিসহ তাকে মার্কিন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি মেম্বার এবং জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। 

এছাড়া একই মিয়ান আরাফি নামে ফেসবুকে অন্তত তিনটি (,,) ব্যক্তিগত আইডি পাওয়া যায় যার একটিতে তিনি নিজেকে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কমিটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষে কাজ করে থাকে। আরাফির নামে চালিত তিনটি আইডির অন্তত দুটিতে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের পাবনায় পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও তাঁঁর বাইডেনের উপদেষ্টা সংক্রান্ত কোনো তথ্যেরই উল্লেখ নেই। 

আরো কিছু লেখা