
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
গত ২৯ মার্চ ফেসবুকের এক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর পোশাকের এক ব্যক্তিকে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। আরেকজন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে হাতকড়া পরহিত অবস্থায় ধরে রেখেছেন। ১৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে তাদের পেছনে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সেনাবাহিনীর পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানও দেখতে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা, “সেনাবাহিনী ওসমান হাদির খু’নিদের ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন।”

সেনাসদস্যকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী, আমরা এইমাত্র ওসমান হাদির খুনিদের ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসলাম। প্রাথমিকভাবে আমরা এক মাসের রিমান্ড মঞ্জুর করেছি। সবাই আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন এবং আমাদের উদ্যোগটি ভালো লাগলে ভিডিওতে সবাই বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার দিন।”
ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে, শেয়ার করা হয়েছে ২৫ হাজারের বেশিবার। পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কে স্যালুট জানাই। তাদের উপর মানুষের আস্থা আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ।” আরেকজন লিখেছেন, “অনেক অনেক ধন্যবাদ, তবে পুলিশের হাতে দিয়েন না, এটা অনুরোধ।”

ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ভিডিওতে কিছু অসঙ্গতি নজরে আসে ডিসমিসল্যাবের। আশেপাশের ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকলেও সবকটি নামই বিকৃত এবং সেগুলো কোনো অর্থবহ শব্দ তৈরি করে না। তাছাড়া বুমের সামনে বক্তব্য দেওয়া সেনা সদস্যের হাতের আঙু ল কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
ভিডিওর ডান পাশে “ভিও” লেখা একটি জলছাপ দেখা যায়। ভিও হলো গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বার্তা থেকে সরাসরি ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম ভিডিও জেনারেটর টুল।
আবার এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ এবং ভিডিওতে যে কথা শুনতে পাওয়া যায়, তা এআই হওয়ার সম্ভাবনা ৭৬%।

অর্থাৎ, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে আসার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাস্তব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ মার্চ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাদের দেশে ফেরাতে যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।