মো. তৌহিদুল ইসলাম
ডিএমপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের দাবিতে ছড়াচ্ছে ২০২৩ সালের ভিডিও
মো. তৌহিদুল ইসলাম
সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার কারণে দলটির নেতা-কর্মীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৩ সালে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার।
“রক্তাক্ত বাংলাদেশ” নামের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিওর বিবরণে লেখা হয়, “এই মুহূর্তে রাজধানীতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরের উপর হামলার প্রতিবাদে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলা করেছে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। মব সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি প্রশাসন।” ক্যাপশনে “#আগস্ট ২০২৫”, “#বাংলাদেশ”, “#নিউজ”, “#ছাত্রলীগ”, “#শেখহাসিনা”, “#মুজিব টিম”, “বিএনপি” এর মত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।
এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায় অনেক মানুষ একটি ফটকের লোহার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছে। এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত পোস্টটি ফেসবুকে একশর বেশিবার শেয়ার হয়েছে এবং সেখানে তিনশর বেশি রিয়্যাকশন আছে। ভিডিওটি (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে।

ঘটনাটি যাচাইয়ে কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে দৈনিক ভোরের পাতার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। বিবরণে বলা হয়, “প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ভাঙচুর গাড়িতে আগুন….।” ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত সেই ভিডিও প্রতিবেদনটির ১০ সেকেন্ডের পর থেকে ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত ফুটেজের সঙ্গে, “ডিএমপির কার্যালয়ে” হামলার দাবিতে ছড়ানো আলোচ্য ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। মাছরাঙা নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর একই দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। বিবরণে লেখা ছিল, “পাখির চোখে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হা’ম’লা’র চিত্র।”

আরেকটি সংবাদমাধ্যম এটিএন বাংলা নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে একই দিনে আপলোড হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে সম্প্রতি ছড়ানো ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। ভিডিও প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যেভাবে হা * ম * লা।”
এছাড়াও ডয়চে ভেলের ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার বিষয়টি উঠে আসে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি মহাসমাবেশ ডেকেছিল। তবে এটি শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন দলটির কর্মীরা। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা প্রধান বিচারপতির বাড়ি, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও পুলিশ বক্সে হামলা চালায়৷ এছাড়াও বেশ কয়েকটি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরিয়ে দেয়৷
ঘটনার তিন দিন পর (৩১ অক্টোবর) এই সহিংসতাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়।
অন্যদিকে ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) তাদের নিজস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডিএমপি নিউজ’-এ নিজেদের কার্যালয়ে হামলার বিষয়টিকে গুজব বলে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “সম্প্রতি মোহাম্মদ শাহ আলম শিকদার নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে হামলা করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব। এ ধরনের কোনো ঘটনা প্রকৃতপক্ষে ঘটেনি।”

প্রসঙ্গত, রাজধানীর কাকরাইলে গত ২৯ আগস্ট রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় নুরুল হক নুরুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরের দিন শনিবার(৩০ আগস্ট) গণ অধিকার পরিষদ সহ একাধিক রাজনৈতিক দল দেশব্যাপি বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এরপর থেকে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছবি-ভিডিও ছড়াতে দেখা যায়। এর ধারাবাহিকতায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে হামলা করেছে সূচক প্রায় দুই বছর আগের ভিডিওটিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।