তামারা ইয়াসমীন তমা

রিসার্চার, ডিসমিসল্যাব
সোমালীয় জলদস্যু দাবিতে প্রকাশিত ছবিটি অন্তত ১২ বছরের পুরোনো
This article is more than 1 month old

সোমালীয় জলদস্যু দাবিতে প্রকাশিত ছবিটি অন্তত ১২ বছরের পুরোনো

তামারা ইয়াসমীন তমা
রিসার্চার, ডিসমিসল্যাব

সোমালিয়া উপকূলে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের তিন দস্যুর ছবি দাবি করে গত ১৩ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে ছবিটি “এমভি আব্দুল্লাহ” জাহাজের নয়, এটি অন্তত ১২ বছরের পুরোনো একটি প্রামাণ্য চিত্রের অংশ।

সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে ২৩ জন নাবিক নিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে এমভি আবদুল্লাহ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। গত ১৩ মার্চ “জলদস্যুর কবলে বাংলাদেশি জাহাজ, ২৩ নাবিক জিম্মি” শিরোনামে প্রিন্ট সংস্করণের প্রথম পৃষ্ঠায় একটি লিড প্রকাশ করে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ। ভুল ছবিটি পত্রিকার লিড নিউজ তথা প্রধান খবরে ব্যবহৃত হয়েছে। ছবিতে দেখা যায় মুখ কাপড়ে ঢাকা রাখা অবস্থায় একটি জাহাজের ডেকে বন্দুক হাতে তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা, “ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া ‘এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে পাহাড়ায় দস্যুদলের তিন সদস্য। মঙ্গলবার জাহাজটির অবস্থান ছিল সোমালিয়ার কাছাকাছি এলাকায়”। ছবির সূত্র হিসেবে ‘সংগৃহীত’ লেখা রয়েছে।

পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে ‘জলদস্যুর কবলে বাংলাদেশি জাহাজ, ২৩ নাবিক জিম্মি‘ শিরোনামে অনলাইনে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় দেখা যায় ১৩ মার্চ সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিট। সর্বশেষ আপডেট  হতে দেখা যায় একই তারিখ সন্ধ্যা ৭টা  ৫২ মিনিটে। সর্বশেষ এই সংস্করণে পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিটি নেই। তবে তাদের ই-পেপার সংস্করণে এখনো ভুল ছবিটি ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে।

ছবির রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ছবি সম্বলিত সবচেয়ে পুরোনো প্রতিবেদনগুলো পাওয়া যায় ২০১৩ সালে। সোমালিয়ার জলদস্যুদের উপর তৈরি প্রামাণ্য চিত্র ‘দ্য স্টোলেন সিজ’ নিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে (, ) ছবিটি ব্যবহৃত হয়। ডিরেক্টর থিমেয়া পেইনের পরিচালিত ডকুমেন্টারি ফিল্মটি ২০১২ সালে মুক্তি পায়।

২০০৮ সালে ১৩ ক্রু সদস্যসহ একটি ডাচ বণিক জাহাজ দখলে নেয় সোমালীয় জলদস্যুরা। দুই মাসের বেশি দস্যুদের হাতে তাদের বন্দিদশার সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় প্রামাণ্য ছবি “দ্য স্টোলেন সিজ”। প্রামাণ্যচিত্রের এক মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ট্রেইলার ইউটিউবে পাওয়া যায়। ট্রেইলারের ০.৩৩ থেকে ০.৪০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে দস্যুদলের সদস্যদের মধ্যে ছবিতে থাকা তিন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা যায়। তাদের পোশাক-মুখ বাধার কাপড় ও হাতে থাকা অস্ত্রও হুবহু এক।

অর্থাৎ জলদস্যুদের ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং অন্তত ১২ বছরের পুরোনো। 

আরো কিছু লেখা