সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
Fact-check: Old Gaibandha river body recovery video falsely shared on Facebook as the killing of a Chhatra League leader in Mymensingh

ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেত্রীকে হত্যার দাবিতে গাইবান্ধার ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব

ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেত্রীকে হত্যার দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ঘটনাটি ৩ মাস পুরোনো। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘট নদী থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য এটি।

ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ২০ ডিসেম্বর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়, “হাদীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সারাদেশে নিরহী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে সুদখোর ইউনুছ বাহিনী। তারই অংশ হিসাবে ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পরে হত্যা করলো বিএনপির জামায়াতের জঙ্গি বাহিনী। পাকিস্তানের মদদে রাজাকারের বাচ্চারা সোনার বাংলাদেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে।” ( বানান অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৬০ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে এবং ৬৫০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (, , ) এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, , , , ) এবং পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হয়। ২৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পানিতে হলুদ পোশাক পরা এক নারীর মৃতদেহ ভেসে আছে। মরদেহটি ঘিরে আশেপাশের উৎসুক জনতা চেঁচামেচি করছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক শোনা যাচ্ছে। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “শেয়ার করুন।”

সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে সার্চ করলে, ডিসমিসল্যাবের সামনে সিএইচটি বার্তা নামের একটি সংবাদমাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। শিরোনামে লেখা, “গাইবান্ধায় নদীতে ভেসেছিল শিক্ষিকার মরদেহ” প্রতিবেদনে ব্যবহৃত মৃতদেহের ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর নারীর হুবহু মিল আছে।

আরও বিস্তারিত জানতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে দেখা যায়, এ ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম ( , , , , ) প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বনিক বার্তার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গাইবান্ধায় ঘাঘট নদী থেকে তাসমিন আরা নাজ নামের এক শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘট নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা মডার্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অর্থাৎ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যার আরও প্রায় তিনমাস আগে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেত্রীকে হত্যার দাবিতে প্রচার করা ভিডিওটি ভুয়া। মূল ভিডিওটি গাইবান্ধা সদরে নদী থেকে এক শিক্ষিকার ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।

আরো কিছু লেখা